কারাগারে ৩৬০ অবৈধ ফোন, বন্দীরাই চালান বাইরের অপরাধচক্র

নিজস্ব প্রতিবেদক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৩:৫৬ পিএম

দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চ নিরাপত্তার দুই কারাগার—কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার এবং গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে টাকা দিলেই বন্দীদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে অবৈধ মোবাইল ফোন। ফোন ব্যবহার করে ভেতর থেকে চলছে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং রাজনৈতিক যোগাযোগসহ নানা অপরাধ। পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) এ বিষয়ে যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তাতে পুরো চিত্রই উঠে এসেছে।

এ বছরের জানুয়ারি থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত উভয় কারাগারকে নজরদারিতে রাখে এসবি। দুই কারাগারের আশপাশ থেকে সংগ্রহ করা ২ লাখ ৫৫ হাজারের বেশি ফোন নম্বরের ডেটা বিশ্লেষণে ভিতরে ব্যবহৃত ৩৬০টি সক্রিয় অবৈধ নম্বর শনাক্ত হয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার: ৭৯টি, কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার: ২৮১টি, এসবি জানায়, কিছু অসাধু কারা সদস্য মোবাইল সেট ও সিম কারাগারে ঢুকিয়ে দিতে জড়িত। টাকার বিনিময়ে ‘ফোন সুবিধা’ জামিনে বের হওয়া সাত বন্দীর বক্তব্য অনুযায়ী, সপ্তাহে নির্ধারিত বৈধ ফোন সুবিধা থাকলেও ৫০০ টাকা বা সিগারেটের প্যাকেট দিলেই ১০–১৫ মিনিট ফোনে কথা বলা যায়।

এ ক্ষেত্রে কারারক্ষী, সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েদি ও ফোন রাইডারদের যোগসাজশ থাকে। কারাগারের ভেতরে সিগারেটের প্যাকেটকে মুদ্রার মতো ব্যবহার করা হয়। হলিউড – ১৬০ টাকা গোল্ডলিফ – ৩০০ টাকা, বেনসন – ৪০০ টাকা, ভেতরে ফোন ঢোকার ভয়ংকর কৌশল কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার জানায়, বন্দীরা পায়ুপথে ছোট ফোন ঢুকিয়ে আনছে বাইরে থেকে বল আকারে মোড়ানো ফোন–মাদক ভেতরে নিক্ষেপ করা হচ্ছে দেয়ালের কুঠুরি, কমোডের ফাটল, ফ্লাশ পাইপ, মোজা বেঁধে জানালার বাইরে ঝুলিয়ে ফোন রাখা হয়, জুন–অক্টোবরের মধ্যে এই কারাগার থেকে ১৬০টির বেশি ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

এসবি জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসীরা কারাগার থেকেই নিজেদের গ্রুপ পরিচালনা করছেন অস্ত্র ও বাহিনীর নির্দেশনা দিচ্ছেন চাঁদাবাজি ও মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করছেন কারাবন্দী রাজনীতিকদের কেউ কেউ রাজনৈতিক নির্দেশনা দিচ্ছেন হত্যার পরিকল্পনার ঘটনাও পাওয়া গেছে ঢাকার ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, গুলশান ও বাড্ডায় কয়েকটি অপরাধে কারাগার–সংযোগ স্পষ্ট হয়।

কারাগার ভেঙে পালানোর পরিকল্পনা এসবির প্রতিবেদনে এসেছে কারাগারে থাকা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা ভেতরে নৈরাজ্য সৃষ্টি ও পালানোর পরিকল্পনা করেন।

কাশিমপুরে তিন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দী কম্বল ছিঁড়ে দড়ি বানিয়ে টাইলস উঠিয়ে সুড়ঙ্গ তৈরি করে পালানোর চেষ্টা করলেও ধরা পড়ে।

কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন অবৈধ মোবাইল শনাক্ত হওয়ার পর অভিযান চালানো হচ্ছে স্ক্যানারে ধরা না পড়া ক্ষুদ্র ফোনই বড় সমস্যা দীর্ঘদিনের অনিয়মে কিছু কারা সদস্য অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন প্রযুক্তি, জনবল, প্রশিক্ষণ—সব ক্ষেত্রেই ঘাটতি রয়েছে।

এসবির সুপারিশ শক্তিশালী মোবাইল জ্যামার প্রয়োগ স্ক্যানার ও প্রযুক্তি উন্নয়ন সিসিটিভি জোরদার অসৎ কারারক্ষী শনাক্ত করে ব্যবস্থা, চিহ্নিত ফোন নম্বরে নিয়মিত গোয়েন্দা নজর, কারা সদস্যদের ভেটিং প্রক্রিয়া চালু করা

Link copied!