আইজিপির কড়া হুঁশিয়ারি, আতঙ্কে ঘুষখোর পুলিশ কর্মকর্তারা

বিশেষ প্রতিনিধি , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১২:০২ এএম

দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। কারণ নবনিযুক্ত আইজিপি আলী হোসেন ফকির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ঘুষ ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে কোনো ধরনের তদবির গ্রহণ করা হবে না—এমন স্পষ্ট বার্তাও দিয়েছেন তিনি। অভিযোগ পাওয়া মাত্র সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন পুলিশপ্রধান।

ইতোমধ্যে পুলিশ ইন্টারনাল ওভারসাইট (পিআইও) ইউনিটের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মকর্তার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে প্রায় দুই ডজন কর্মকর্তার প্রোফাইল পর্যালোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, ঘুষ, দুর্নীতি ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে সংশ্লিষ্ট ডিআইজি, কমিশনার ও এসপিদের সৎ ও জবাবদিহিতার মধ্যে থাকতে হবে। কিন্তু দায়িত্বশীল কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেই ঘুষ ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কেউ কেউ সরাসরি অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে ওসি বা অন্যান্য কর্মকর্তা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পোস্টিং নিলে, কর্মস্থলে যোগ দিয়েই সেই অর্থ ‘উঠিয়ে’ নেওয়ার চাপে পড়েন। এতে মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অপরাধচক্রের সঙ্গে তাদের যোগসাজশের ঝুঁকি তৈরি হয়।

পুলিশের কয়েকজন ডিআইজি, এসপি ও ওসি পদমর্যাদার কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ জমা পড়েছে। তালিকায় ময়মনসিংহের ভালুকা মডেল থানাসহ রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, ভোলা, যশোর, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, রংপুর, মুন্সীগঞ্জ, শেরপুর ও ঝিনাইদহের কয়েকজন পদস্থ কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে বলে জানা গেছে।

এর মধ্যে ময়মনসিংহের ভালুকা মডেল থানার ওসি জাহিদুল ইসলামসহ সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুদক ও পুলিশ সদর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম।

অভিযোগ আরও রয়েছে, এক থানা থেকে অন্য থানায় ওসি পোস্টিং, এসআই বদলি কিংবা কনস্টেবল থেকে এএসআই পদে পদোন্নতিতেও বড় অঙ্কের ঘুষ লেনদেন হয়। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কনস্টেবল নিয়োগে ঘুষ বন্ধ করা গেলে পুলিশের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণে আসবে।

নতুন আইজিপি আলী হোসেন ফকির স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, কোনো পুলিশ সদস্যের ব্যক্তিগত অপরাধের দায় প্রতিষ্ঠান নেবে না। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশপ্রধানের এই কঠোর অবস্থানে দুর্নীতিতে জড়িতদের মধ্যে অস্বস্তি বাড়লেও সাধারণ মানুষের মধ্যে জবাবদিহিমূলক ও সুশাসিত পুলিশিংয়ের প্রত্যাশা জোরালো হচ্ছে।

Link copied!