মেজর সিনহা হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাসের হাতে অমানবিক নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খানের বিরুদ্ধে দায়ের করা ছয়টি সাজানো মামলা এখনো প্রত্যাহার না হওয়ায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে তার পরিবার ও স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে দৈনিক কক্সবাজার বাণী–এর সম্পাদক ও প্রকাশক ফরিদুল মোস্তফার বিরুদ্ধে ওসি প্রদীপ ছয়টি মিথ্যা মামলা দেন। এসব মামলার বোঝা বইতে গিয়ে তিনি প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপন করছে তার পরিবার। মামলাগুলো প্রত্যাহার, জানমালের নিরাপত্তা এবং আটকে রাখা পাসপোর্ট ফেরত পেতে বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ধরনা দিলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি প্রশাসন।
অবস্থা: ছয় বছরেও নিষ্পত্তি নয়:
জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর আগে জামিনে মুক্তির পর থেকেই পরিবার ও ফরিদুল বিভিন্ন পর্যায়ে—সাবেক প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তর, ডিসি ও এসপি—সবার কাছে আবেদন করেও কোনো অগ্রগতি পাননি। সম্প্রতি সরকার পরিবর্তনের পরও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা, রাষ্ট্রপতি ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন। তবু সহযোগিতা মেলেনি।
ফরিদুল মোস্তফা বলেন, “মামলার বোঝা আর সইতে পারছি না। আর্থিক দৈন্যদশা দিনে দিনে বাড়ছে।” প্রদীপের পৈশাচিক নির্যাতন ও সাজানো মামলা ২০১৯ সালে ‘টাকা না দিলে ক্রসফায়ার দেন টেকনাফের ওসি প্রদীপ’ শিরোনামে প্রকাশিত একাধিক বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ এবং পুলিশের অনিয়মের প্রতিবাদ করায় ওসি প্রদীপ ও তৎকালীন এসপি এবিএম মাসুদ হোসেনের রোষানলে পড়েন ফরিদুল। এরপর ওসি প্রদীপ তাকে বিনা পরোয়ানায় ঢাকায় আটক করে টেকনাফে নিয়ে গিয়ে কয়েক দিন অমানবিক নির্যাতন চালান এবং অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজির ছয়টি সাজানো মামলা দিয়ে আদালতে চালান করেন। এসব মামলায় তিনি টানা ১১ মাস ৫ দিন কারাভোগ করেন।
পরবর্তীতে তিনি তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে জীবনের নিরাপত্তা চান। আদালতে মামলা ডিসচার্জের আবেদন করলেও রহস্যজনকভাবে তার বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হয়। বিচারপ্রাপ্তিতে গড়িমসি কক্সবাজারের সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মো. ইসমাইল বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ফরিদুলের ওপর ওসি প্রদীপের জুলুম-নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
জানা গেছে, ফরিদুলের করা ফৌজদারি মামলাটি পাঁচ বছর ধরে আদালতে রেকর্ডই হয়নি। পিবিআইকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে হাইকোর্ট চার সপ্তাহ সময় দিলেও গত ছয় বছরে প্রতিবেদন জমা দেয়নি। তদন্ত কর্মকর্তার গড়িমসিতে মামলার বিচার বিভাগীয় তদন্তও আলোর মুখ দেখেনি।
এ ছাড়া ফরিদুলের স্ত্রীর দায়ের করা হাইকোর্টের রিট, যার রুলে প্রশ্ন ছিল কেন ফরিদুলের জীবনের নিরাপত্তা দেওয়া হবে না সেই রিটও ছয় বছর ধরে ঝুলে আছে।
পাসপোর্ট নবায়নে অযথা জটিলতা:
জামিনে মুক্তির পর ডিজিটাল পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন করলেও পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের অজুহাতে সেটি স্থগিত করে দেয় পাসপোর্ট অফিস।
অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহারের দাবি স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ ও ফরিদুলের পরিবার মিথ্যা ও সাজানো মামলাগুলোর দ্রুত তদন্ত ও প্রত্যাহার, তাকে নিরাপত্তা প্রদান এবং তার পাসপোর্ট ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :