শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমুল ইউনিয়নে কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত একটি রাস্তার ইটের সোলিংকরণ কাজে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। প্রকল্পের সভাপতির দায়িত্বে থাকা রানীশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সোহাগের তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই নিম্নমানের রাস্তা জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পরিণত হওয়ায় প্রশাসন তা ভেঙে নতুন করে নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছে।
স্থানীয়দের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন সরেজমিন তদন্ত চালিয়ে কাজের গুরুতর ত্রুটি শনাক্ত করে। তদন্তে চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সোহাগের সভাপতিত্বে বাস্তবায়িত প্রকল্পে অনিয়মের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। এর পরই দায়সারা নির্মিত অংশ খুলে নতুন করে মানসম্মতভাবে কাজ শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়।
স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, রানীশিমুল ইউনিয়নের হাতিবর গ্রামে মজিবরের বাড়ির সামনের দোকান থেকে নুনুর বাড়ি অভিমুখী প্রায় ৩৭০ মিটার রাস্তার ইটের সোলিংকরণের জন্য কাবিটা প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ২৩০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সোহাগ।
কাজ শুরুর পরপরই এলাকাবাসী দেখতে পান, রাস্তার বিভিন্ন অংশে ইটের মাঝে প্রায় দুই ইঞ্চি ফাঁক রাখা হয়েছে এবং বহু স্থানে ইট খাড়া (উলম্ব) করে বসানো হয়েছে। এসব ফাঁকের ভেতর মাটি ঢুকিয়ে ঢেকে দেওয়ায় শুরুতে রাস্তা স্বাভাবিক মনে হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা ডেবে যায় এবং চলাচলে ঝুঁকি তৈরি করে।
রানীশিমুল ইউনিয়নের বাসিন্দা নুর আলম বলেন, “ইট খাড়া করে বসানো হয়েছিল, মাঝখানে বড় ফাঁক ছিল। এটা যে চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে হয়েছে, তা সবাই জানে। আমরা বারবার অভিযোগ করলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।”
আরেক বাসিন্দা অন্তর আহম্মেদ বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শিশু, রোগী ও কৃষিপণ্যবাহী গাড়ি চলে। চেয়ারম্যানের এমন অনিয়মের কারণে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।”
স্থানীয় কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “১০ লাখের বেশি টাকার কাজ অথচ রাস্তার অবস্থা ভয়াবহ। চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সোহাগ দায়সারা কাজ করে জনগণকে ধোকা দিয়েছেন।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সোহাগের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো বক্তব্য দেননি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন বলেন, “সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, কাজের কোনো মানদণ্ড মানা হয়নি। এটি সরকারি অর্থের অপচয় ও জনগণের সঙ্গে প্রতারণা। তাই সম্পূর্ণ কাজ বাতিল করে নতুন করে নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা আহম্মেদ বলেন, “তদন্তে ব্যাপক অনিয়ম ও দায়িত্বহীনতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে সব উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, প্রশাসনের সময়োচিত হস্তক্ষেপ না হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।
আপনার মতামত লিখুন :