গাজীপুরে পরাজয় মেনে বিজয়ী মিলনকে অভিনন্দন: খায়রুল হাসানের গণতান্ত্রিক উদারতায় প্রশংসার জোয়ার

আখতার হোসেন , বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১২:৩২ পিএম

গাজীপুর-৫ আসন নির্বাচনে পরাজিত হয়েও রাজনৈতিক সৌজন্য ও গণতান্ত্রিক উদারতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন খায়রুল হাসান। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এই প্রার্থী প্রকাশ্যে অভিনন্দন জানিয়ে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ধানের শীষ প্রতীকের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিজয়ী প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হক মিলনকে।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বার্তায় খায়রুল হাসান গাজীপুর-৫ (কালীগঞ্জ-পূবাইল-বাড়িয়া) এলাকার ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি লেখেন—তিনি কার্যত পরাজিত নন; মানুষের স্নেহ-ভালোবাসাই তার বড় অর্জন। একই সঙ্গে বিজয়ী মিলনকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এলাকার উন্নয়ন ভাবনা বাস্তবায়ন হবে ও একটি নিরাপদ জনপদ গড়ে উঠবে। পাশাপাশি অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি।

তার এই বার্তার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিভিন্ন মন্তব্যে তার রাজনৈতিক সৌজন্য, ব্যক্তিত্ব ও পরাজয় মেনে নেওয়ার মানসিকতার প্রশংসা করেন অনেকে।

তার ফেসবুক বার্তায় মন্তব্যে আবদুল্লাহ খন্দকার মন্তব্য করেন: “সকলের কাছে শুনেছি আপনি ব্যক্তি হিসেবে ভালো—অভিনন্দন জানিয়ে তার প্রমাণ দিলেন। ধন্যবাদ ভাই।” আমিনুল ইসলাম লিখেছেন: “ইনশাল্লাহ ভাই আছি, ছিলাম, থাকবো শেষ পর্যন্ত।” সাহেদ সরকার মন্তব্য করেন, “ইনশাআল্লাহ মিলন ভাই সহ আমরা ও আপনাদের পাশে আছি, থাকব।” শেখ মাসুদ লিখেছেন: “মন খারাপ করবেন না, শুরুর বছরেই যে লড়াইটা করতে পারছেন যথেষ্ট। ইনশাআল্লাহ সামনে আরও ভালো করবেন।” ‘মোল্লা কম্পিউটারস’ আইডি থেকে মন্তব্য আসে: “আদর্শ কখনো হারেনা। এখানে সুন্দর নির্বাচন হয়েছে, জনগণ পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছে—এটাই প্রত্যাশা ছিল।” রিফাত আহমেদ লিখেছেন: “জীবনের প্রথম ভোটটা আমি আপনাকেই দিয়েছি প্রিয় খায়রুল হাসান ভাই।” কানন হাসান লেখেন: “ভাই আপনি একজন ভালো মানুষ। ইনশাআল্লাহ ভালো কিছু হবে সামনে, সাম্যের কালীগঞ্জ গড়বো সবাই মিলে।” শরীফ আহমেদ রুদ্র লিখেছেন: “হারজিত দুনিয়ায় পর থেকেই—একজন হারবে, একজন জিতবে।” মেহেদী হাসান মন্তব্য করেন: “আল্লাহ আপনার সহায় হোন। আপনি হারেন নাই, হেরেছে ন্যায় ও ইনসাফ।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের পর এমন সৌহার্দ্যপূর্ণ বার্তা রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। খায়রুল হাসানের এই উদার মানসিকতাকে অনেকেই গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপক্ব উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

Advertisement

Link copied!