চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে যাকে বিএনপি পাগল নেত্রী হিসেবে চিনেন যার এই নামেই সর্ব পরিচিত তিনি হলো এডভোকেট হাসনা হেনা। বিএনপির প্রতিটি মিছিল মিটিং-এ প্রথম সারিতে দেখা যেতো। তার কথাবার্তা স্লোগান বক্তব্য সবসময় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে। কোনো আপোষ নয়, কারো কাছে মাথা নতো নয়, আন্দোলন চলবে।
বিএনপির বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তার সাথে বাকবিতন্ডা শুরু হয়ে যেতো। হাসনা হেনার আন্দোলনকে দমন করতে ও তার মুখ একেবারেই বন্ধ করে দিতে ২০২২ সালে তৎকালীন ক্ষমতায় থাকা চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির ফ্যাসিবাদের দোসররা তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন জিয়ার নেতৃত্বে ও সুকৌশলে এডভোকেট হাসনা হেনার "ল" এবং সদস্য পদ ও সনদ স্থগিত করে। তারপরও হাসনা হেনা দমে থাকার নারী নয়।
একদিকে বিএনপির মিছিল মিটিং আরেকদিকে তার সদস্য পদ ও সনদ ফিরিয়ে আনতে তৃমুখী আন্দোলন চালিয়ে গেছেন। ২০০৬ সালে আইনজীবী সমিতির তালিকা ভুক্ত হন হাসনা হেনা। ২০ বছর আইনী পেশায় থেকেও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে অবিচল রেখে গেছে বিএনপি গড়োনা রাজনীতিতেই। চট্টগ্রাম মহানগর ১৪ নং ওয়ার্ড লালখান বাজার এলাকায় যাদের এক নামে পরিচিত বিএনপি পরিবার বলে।
মহানগর নেতাদের কাছেও প্রতিষ্ঠাতা বিএনপির কর্মী হিসেবেও পরিচিত ছিলো হাসনা হেনরা বাবা মরহুম এডভোকেট মহসিন ভূঁইয়া। এডভোকেট হাসনা হেনা শিক্ষাগত জীবনে বি এস এস (অনার্স) ও, এম এস এস (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শেষ করে পরবর্তী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এল এল বি পাস করে আইন পেশায় নিয়োজিত হন। ২০১১ সালে আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য ও ২০১৮ সালে সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন হাসনা হেনা।
জাতীয়তাবাদী চট্টগ্রাম আইনজীবী ফোরামের মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ও যুগ্ম সম্পাদক পদেও দায়িত্ব পালন করেন। এডভোকেট হাসনা হেনা বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের সাথেও সামাজিক কাজ নিরলস ভাবে করে যাচ্ছেন যেমন ব্লাস্ট, জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি লিগ্যাল এইট বাংলাদেশ, ও মানবাধিকার কমিশন। হাসনা হেনা দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপি'র রাজনীতিতে সক্রিয় থেকেও বড় পদ-পদবীর লালায়িত ছিলেন না একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে কাজ করার লক্ষ বলেই জানান।
বর্তমান বিএনপি সরকার গঠন করেছে খুব শিগগিরই সংরক্ষিত নারী আসন প্রার্থী দিতে যাচ্ছে , চট্টগ্রাম থেকে অনেকেই দৌড়ঝাঁপ করছেন প্রার্থী হতে। এবিষয়ে কথা বললে হাসনা হেনা বলেন, আমি রাজনীতি করি দেশ ও দশের জন্য। জনগণের ভালোবাসাই হচ্ছে আমার সম্পদ। আমি প্রার্থী হবো বিষয়টি জনগণের উপর নির্ভর করে এবং দলের হাইকমান্ডের দিক-নির্দেশনাকে প্রাধান্য দিতে চাই। দলের সিদ্ধান্তই হচ্ছে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত মনে করি।
দল নীতি নির্ধারকরা আমাকে যা দায়িত্ব দিবে আমি সেটাই পলন করবো। তবে এই মুহুর্তে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব হলো বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করা। এবং দলের ভাবমূর্তি নষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রেখে মাদককারবারী, ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
আপনার মতামত লিখুন :