কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ১২নং আড্ডা ইউনিয়নের বটতলী বাজারের পূর্ব পাশে কৃষ্ণপুর গ্রামের দক্ষিণ পাড়ায় অনুমতি ছাড়াই ফসলি জমিতে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ইসমাইল নামের এক বিএনপি নেতা এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ আবাদি জমির চারপাশে মাটি তুলে উঁচু বাঁধ তৈরি করে সেখানে ড্রেজার বসানো হয়েছে। পাইপের মাধ্যমে দ্রুতগতিতে মাটি কেটে অন্যত্র সরানো হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাত্র এক বছর আগেও একই জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছিল এবং ভালো ফলন পাওয়া গিয়েছিল।
গ্রামের একাধিক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "গত বছর এই সময়ে এখানে সোনালি ধান দুলছিল। এবার সেই জমিতে চলছে মাটি কাটার মহোৎসব। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে জমিতে আর চাষাবাদ করা সম্ভব হবে না।" তাদের আশঙ্কা, নির্বিচারে মাটি উত্তোলনের ফলে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা নষ্ট হয়ে যাবে এবং আশপাশের ফসলি জমিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এতে স্থানীয় কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, কে এই ইসমাইল? তার এত ক্ষমতার উৎস কোথায়? শুধুমাত্র বিএনপির রাজনীতি করার কারণেই কি আইন ও প্রশাসনিক অনুমতির প্রয়োজন পড়ে না? দলীয় পরিচয় থাকলেই কি সব কিছু বৈধ হয়ে যায়?—এমন প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে পুরো এলাকায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চললেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বারবার অবহিত করা হলেও বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা দৃশ্যমান ভূমিকা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে বরুড়া উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসী জাকারিয়া তাহের সুমন এমপি’র জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পাশাপাশি বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে ফসলি জমি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন তারা। ফসলি জমি রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপই এখন কৃষক সমাজের একমাত্র প্রত্যাশা।
আপনার মতামত লিখুন :