ভোট গণনায় ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করে ৫০টির বেশি আসনে জামায়াতকে হারানো হয়েছে: গোলাম পরওয়ার

উবায়দুল্লাহ রুমি , নিজস্ব সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের ভোট গণনা, ফলাফল তৈরি এবং ঘোষণার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীকে অনেক সংসদীয় আসনে মাত্র এক-দেড় হাজার থেকে পাঁচ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরিকল্পিতভাবে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এ ধরনের আসনের সংখ্যা পঞ্চাশটিরও বেশি।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর টাউন হল মিলনায়তনে জামায়াতে ইসলামী ময়মনসিংহ মহানগর শাখার রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভোট পুনর্গণনা ও আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছি। বিধি অনুযায়ী যে নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে, সেখানেও আমরা আমাদের অভিযোগগুলো নিয়ে যাব। যেসব আসনে অনিয়ম হয়েছে, সেখানে ভোটের পুনর্গণনা ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হবে।”

‘দাঁড়িপাল্লার গণজোয়ারে’ সবাই বিস্মিত জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, দেশের মানুষ গত নির্বাচনে যেভাবে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে গণজোয়ার তৈরি করেছিল, তাতে কেবল জামায়াত নয় বরং দেশের মানুষ, মিডিয়া এমনকি বিরোধীরাও বিস্মিত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনের দুদিন আগে রাজধানী থেকে মানুষ যেভাবে লঞ্চ, নৌকা ও বাসের ছাদে চড়ে গন্তব্যে ফিরেছে এবং 'দাঁড়িপাল্লা' স্লোগানে মুখরিত করেছে, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে অভূতপূর্ব।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি এবং গণনার সময় সারা দেশ থেকে আমাদের প্রার্থীদের বিজয়ের খবর আসছিল। কিন্তু ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিডিয়ায় ফলাফল প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়।”

নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতির অঙ্গীকার আগামী দিনেও জামায়াতে ইসলামী জনগণের পাশে থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, “জামায়াত সব সময় নিয়মতান্ত্রিক, রাজনৈতিক এবং গঠনমূলক ভূমিকা পালন করবে। আমরা সহিংসতা বা চরমপন্থার পথকে ইসলামী পথ বলে মনে করি না। তবে আমাদের সংসদ সদস্যদের সততা ও বিনয়কে কেউ যেন দুর্বলতা মনে না করেন। জনগণের ওপর যে কোনো ধরনের অন্যায় হামলা থেকে আমরা দেশবাসীকে রক্ষায় সচেষ্ট থাকব।”

সম্মেলনের বিবরণ ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির ড. মাওলানা কামরুল আহসান এমরুলের সভাপতিত্বে রুকন সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিন, মিডিয়া বিভাগের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ এবং জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল করিম। সম্মেলনে মহানগর জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement

Link copied!