বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের কাইচতলী এলাকার একটি গ্রামীণ সড়কে দু’টি স্থানে টোল আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে স্থানীয় কৃষক, দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাইচতলী হয়ে টঙ্গাবতী সড়কে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলের সময় দু’টি জায়গায় টাকা দিতে হয়। পণ্যের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হারে এই টোল আদায় করা হয়। কৃষিপণ্য, বাঁশ, জ্বালানি কাঠ, গরু ও ফল পরিবহনের ক্ষেত্রেও এই টাকা দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, হলুদিয়া এলাকা থেকে কাইচতলীর প্রবেশমুখে একটি টোল পয়েন্টে সুয়ালক ইউনিয়ন পরিষদের নামে ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছে। সেখানে দায়িত্বরত মো. সেলিম জানান, ইউনিয়ন পরিষদের ইজারার মাধ্যমে এই টোল আদায় করা হচ্ছে এবং গাড়িকে রশিদ দেওয়া হয়। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উক্কুনু মারমাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে কিছু দূর এগোলেই উত্তর কাইচতলী জামে মসজিদের পাশে আরেকটি টোল পয়েন্ট দেখা যায়। সেখানে আমান উল্লাহ নামে একজন জেলা পরিষদের নামে পণ্যবাহী গাড়ি থেকে টাকা আদায় করছেন। তবে তার কাছে কোনো বৈধ রশিদ বা অনুমোদনের কাগজপত্র পাওয়া যায়নি।
বান্দরবান জেলা পরিষদের সাঁটলিপিকার-কাম-কম্পিউটার অপারেটর সুজিত কুমার বড়ুয়া বলেছেন, জেলা পরিষদের তালিকায় কাইচতলী এলাকায় কোনো টোল পয়েন্ট নেই। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জেলা পরিষদের নাম ব্যবহার করে এখানে অবৈধভাবে টাকা আদায় করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি জেলা পরিষদ থেকে টোল পয়েন্টটি নিয়েছেন। তবে জেলা পরিষদের তালিকায় এমন কোনো ইজারার তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের নির্বাহী মুখ্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই অফ দ্য রেকর্ডে বলেছেন, অভিযোগ সত্য হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :