নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপ ইউনিয়নের বনভূমি, চর ও সী-বিচ দখলের পর এবার নদী-খাল দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী ইব্রাহিম পার্টির বিরুদ্ধে। অভিযোগ, তার অনুমতি ছাড়া নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ায় জেলেদের জাল লুট, মারধর ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে।
গত শনিবার (১১ এপ্রিল) দিবাগত রাত সাড়ে ৮টার দিকে চর কবিরা সংলগ্ন নদীতে মাছ ধরতে গেলে ভোলার চরফেশন এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মাঝির আড়াই লাখ টাকার জাল লুটের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আব্দুল মাঝি জানান, তারা কোরাল জাল ফেলতে গেলে একদল লোক ইব্রাহিম পার্টির নাম বলে তাদের জোর করে নদী থেকে তুলে নেয়। ইব্রাহিম পার্টি জানায়, চর কবিরা থেকে মনপুরার কালকিনি সীমান্ত পর্যন্ত সব তাদের দখলে এবং সেখানে মাছ ধরতে হলে তাদের কাছ থেকে ‘হার (ফার) ভাড়া’ নিতে হবে, অন্যথায় নৌকা ছিদ্র করে দেওয়া হবে।
আব্দুল মাঝি আরও বলেন, হুমকি দিয়ে তাদের তাড়িয়ে দেওয়ার পর দেখেন নদীতে ফেলা আড়াই লাখ টাকার জাল নেই। পরে তার কাছে গেলে প্রথমে অস্বীকার করেন। তাদের ৮ কেজি ৮০০ গ্রামের একটি কোরাল মাছও নিয়ে যায় ইব্রাহিম পার্টির লোকজন। প্রায় ১০ হাজার টাকার মাছের বিপরীতে মাত্র দুই হাজার টাকা দিয়ে তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ইব্রাহিম পার্টির সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাল লুটের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জাল আমি নিইনি, নৌ-পুলিশ নিয়েছে। তবে নিঝুম দ্বীপ নৌ-পুলিশ ইনচার্জ আশিক জানান, এ ধরনের কোনো ঘটনার বিষয়ে তিনি অবগত নন।
ঘটনার পর চারদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে গতকাল রোববার (১২ এপ্রিল) রাতে লুট হওয়া জালের অর্ধেক ফেরত পাঠানো হয় বলে জানান আব্দুল মাঝি। তবে বাকি জাল ফেরত না পাওয়ায় তিনি অভিযুক্তদের বিচার দাবি করেছেন।
এদিকে এ ঘটনার মধ্যেই গতরাতে নিঝুমদ্বীপের নামারবাজারে বিলাসের চা দোকানে স্থানীয় সোহরাব মাঝির ছেলে রাজিবকে মারধর করে ইব্রাহিম পার্টির ভাতিজা ইলিয়াস। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, সাগরে জাল বসানোর ভাড়া না দেওয়ায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্তত ১০ জন জেলে জানান, তারা ১০ থেকে ৩০ বছর ধরে নিঝুম দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায় মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন। কিন্তু বর্তমানে ইব্রাহিম পার্টি ও তার ভাই খায়ের পার্টির গ্রুপকে চাঁদা না দিলে নদী বা সাগরে যাওয়া যায় না। প্রতি ‘হার (ফার)’ বাবদ ৩০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়।
জেলেদের অভিযোগ, চাঁদা না দিলে মারধর, জাল কেটে দেওয়া কিংবা নৌকা ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া সাগর থেকে মাছ এনে তাদের গদিতে দিতে বাধ্য করা হয়, কিন্তু সঠিক মূল্য পাওয়া যায় না। ৮০০ টাকার মাছের দাম দেওয়া হয় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, ৫০০ টাকার চিংড়ি দেওয়া হয় মাত্র ৬০ টাকা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইব্রাহিম পার্টি বিভিন্ন গ্রুপ তৈরি করে নিঝুম দ্বীপের সী-বিচের উত্তর পাশে শতাধিক দাগ জমি, বনভূমি ও চর এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ দখলে নিয়েছেন। নামার বাজারে বিলাসবহুল হোটেলসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে নৌপুলিশ ইনচার্জ আশিক জানান, ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :