ফেনী জেনারেল হাসপাতালে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য, নীরব কর্তৃপক্ষ

রাকিব হোসেন , ফেনী সদর সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৯ মার্চ, ২০২৬, ০২:৫০ পিএম

ফেনীর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতালকে ঘিরে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ দালাল চক্র। রোগী ও তাদের স্বজনদের কাছ থেকে এ গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসা সেবা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য প্রতিদিন শত শত মানুষ এই হাসপাতালে ভিড় করলেও, সেই সুযোগকে পুঁজি করে একটি অসাধু সিন্ডিকেট রোগীদের টার্গেট করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব দালাল কৌশলে রোগী ও স্বজনদের বিভ্রান্ত করে হাসপাতালের বাইরে থাকা নির্দিষ্ট কয়েকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাচ্ছে। নানা ধরনের ভুল তথ্য ও ভয়ভীতি দেখিয়ে রোগীদের সেখানে পরীক্ষা করাতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

হাসপাতালের কিছু চিকিৎসকের সহায়ক সক্রিয় রয়েছে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংঘবদ্ধ দালাল চক্র। রোগী ও তাদের স্বজনদের টার্গেট করে নানা প্রলোভন দেখিয়ে নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো, অতিরিক্ত টাকা আদায়সহ প্রতারণা যেন তাদের কাছে নিত্যদিনের ঘটনা। চিকিৎসকদের ঘনিষ্ঠতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে এই দালালরা রোগীদের বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করছে এবং নিজেদের স্বার্থে নানা অপকৌশল অবলম্বন করছে, যা হাসপাতালের সেবা ব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

হাসপাতাল চত্বরে প্রকাশ্যেই এই দালাল চক্র সক্রিয় থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে। অনেকের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চোখের সামনেই এমন প্রতারণা চললেও তারা যেন দেখেও না দেখার ভান করছে। ফলে প্রতিনিয়ত সাধারণ রোগী ও স্বজনরা প্রতারণার শিকার হয়ে আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

এ ঘটনায় দ্রুত হস্তক্ষেপ ও কঠোর নজরদারির দাবি তুলেছেন সচেতন মহল। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল চত্বরে দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য চললেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজনরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতাল এলাকাকে দালালমুক্ত ঘোষণা করে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, এখনই দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিলে এই অনিয়ম আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

Link copied!