কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ইমন (১৭) নামের এক কিশোরকে দাড়ালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। আজ মঙ্গলবার ( ২৪ মার্চ) রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টার সময় উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের লুন্দিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত ইমন লুন্দিয়া পাগলা বাড়ীর ইসা মিয়ার ছেলে।
খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল গিয়ে নিহতের সূরত হাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ থানায় নিয়ে যায়। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এলাকা বাসী জানায়, উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের লুন্দিয়া গ্রামের পাগলা বাড়ী ও শেখ বাড়ীর মধ্যে বিগত ৭ থেকে ৮ বছর ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। আজ সন্ধার পর পাগলা বাড়ীর ইমনকে তার পিতা দোকান থেকে মিনিট কাঠ আনতে দোকানে পাঠায়। মিনিট কাঠ নিয়ে ফিরার পথে শেখ বাড়ীর লোকদের সাথে তার সামান্য ধাক্কা ধাক্কি হয়। এরই জের ধরে শেখ বাড়ীর লোকজন ইমন(১৭) কে পিটিয়ে এবং দাড়ালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে মারাত্মক আহত করে। খবর পেয়ে ইমনের স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় নেওয়ার জন্য রেফার্ড করে। এম্বুলেন্স আসার আগ মুহুর্তে সে মারা যায়। পড়ে পুলিশ এসে সূরত হাল রিপোর্ট তৈরি করে লাশ থানায় নিয়ে যায়।
ইমনের পিতা বলেন, আমার ছেলে বাড়ি আসার পথে শেখ বাড়ির লোকজন তাকে বেধরক পিটিয়ে এবং দা দিয়ে কুপিয় মেরে ফেলেছে। আমি এর বিচার চাই।
নিহতের স্বজন আব্দুল মাজিদ বড় মিয়া বলেন, কয়েকটা বাড়ি একত্রিত করে নাম দিয়েছে শেখ বাড়ি। তারা প্রায় সময়ই নিরহ প্রকৃতির মানুষের উপর জুলুম নির্যাতন করে থাকে। আজ াতে পাগলা বাড়ির ইমান তার বাবার জন্য মিনিট কাট কিনে বাড়ি ফেরার পথে শেখ বাড়ির লোকদের সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ইমানকে পিটিয়ে টেটা বল্লম বিদ্ধ করে মারাত্মক জখম করে। খবর পেয়ে ইমানের বাড়ির লোকজন এসে মুমূর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। ঐখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইমানের মৃত্যু ঘটে।
পাগলা বাড়ির আবুল কালাম ইমান দোকান থেকে মিনিট কাট নিয়ে আসার পথে শেখ বাড়ির বেশ কিছু লোক দেশিয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং বল্লম দিয়ে আঘাত করে। মারাত্মক রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসা অবস্থায় ইমান মারা যায়।
এলাকাবাসী হামিদ মিয়া বলেন, দশ পনেরটা বাড়ি এক সাথে হয়ে নাম দিয়েছে শেখ বাড়ির বংশ। তারা মানুষের সাথে অযথায় ঝগড়া বিবাদ করে। আজও ইমানকে পিটিয়ে মেরেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিসক উম্মে হাবিবা জুই বলেন, ইমান নামে (১৭) বছরের একটা ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় রাত এগারটার সনয় আসে। এসময় তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য আমরা তাকে ঢাকা মেডিকেলে রেফার্ড করি। এম্বুলেন্স আসার আগ মুহুর্তে ইমামের মৃত্যু হয়।
ভৈরব থানার সহকারী পরিদর্শক রাকিব বিন ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে ডাক্তারের সাথে কথা বলে জানতে পারি রক্তাক্ত আহত অবস্থায় চিকিসাকালীন ইমাম নামে কিশোর মারা গেছে। লাশের সুরুৎহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য কিশোরগজের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।
আপনার মতামত লিখুন :