ঢাকা, ২৬ মার্চ ২০২৬ (বৃহস্পতিবার): মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস প্যারেড ২০২৬। বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে স্বাধীনতার চেতনা, সামরিক সক্ষমতা এবং জাতীয় ঐক্যের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ ঘটে, যা দেশের ভাবমূর্তিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সমুন্নত করেছে।
তেজগাঁও-এর জাতীয় দিবস প্যারেড অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম এবং তিন বাহিনীর প্রধানগণ। তারা মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে অভ্যর্থনা জানান এবং অনুষ্ঠানের মর্যাদা বহুগুণে বৃদ্ধি করেন।
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের নির্দেশনায় এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ প্যারেডে বীর মুক্তিযোদ্ধা, সশস্ত্র বাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। কুচকাওয়াজে মোট ২৫টি কন্টিনজেন্ট শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে সালাম প্রদান করে।
প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হক, যিনি তাঁর দক্ষ নেতৃত্বে পুরো কুচকাওয়াজকে সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্ত করে তোলেন। সুসজ্জিত বাহনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণ ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ। পাশাপাশি যান্ত্রিক বহরে আধুনিক সমরাস্ত্র প্রদর্শন দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার দৃঢ় বার্তা দেয়।
আকাশে ছিল দৃষ্টিনন্দন ফ্লাইপাস্ট—আর্মি এভিয়েশন, নেভাল এভিয়েশন, বিজিবি এয়ার উইং ও র্যাবের সমন্বিত প্রদর্শনী দর্শকদের মুগ্ধ করে। বিশেষভাবে প্যারা কমান্ডোদের দুঃসাহসিক ফ্রিফল জাম্প এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর মনোমুগ্ধকর এরোবেটিক ডিসপ্লে পুরো অনুষ্ঠানকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়।
নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও চেতনা পৌঁছে দিতে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারসহ রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে স্থাপন করা হয় অসংখ্য ব্যানার ও বিলবোর্ড। প্যারেড গ্রাউন্ডে অংশগ্রহণকারী বাহিনীগুলোর বিভিন্ন অর্জন ও কর্মকাণ্ডের চিত্র প্রদর্শন করা হয়, যা দর্শনার্থীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
এ আয়োজন সফল করতে গণপূর্ত অধিদপ্তর, পিডিবি, ঢাকা ওয়াসা, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, টিএন্ডটি, ডেসকোসহ বিভিন্ন সংস্থার সম্মিলিত সহযোগিতা ছিল প্রশংসনীয়।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস প্যারেড ২০২৬ শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি ছিল জাতির গৌরবময় ইতিহাস, আত্মত্যাগ এবং অদম্য অগ্রযাত্রার প্রতীক—যা নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মর্যাদা আরও সুদৃঢ় করবে।
আপনার মতামত লিখুন :