ময়মনসিংহ যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি প্রকল্পে বেকার যুবক-যুবতীদের প্রশিক্ষণ না দিয়ে প্রশিক্ষকের সম্মানী, মাঠকর্মীদের বেতন ও ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বাকৃবি অফিসার ক্লাবের সভাপতি আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রী ময়মনসিংহের সাবেক উপ-পরিচালকসহ ৭ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। ময়মনসিংহ জেলা ও দায়রা জজ এবং সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়।
আদালতের নির্দেশে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ময়মনসিংহ জেলা শাখার উপসহকারী আনিসুর রহমান ও শাহজাহানকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ১০ উপজেলায় ২৯২ কোটি ১১ লাখ ৫১২ টাকা বরাদ্দের মধ্যে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাত ও অপচয় করা হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে, গৌরীপুরে ৪৭ কোটি, হালুয়াঘাটে ৩৭ কোটি, ফুলবাড়ীয়ায় ৪৪ কোটি এবং ত্রিশালে ৪৩ কোটি টাকাসহ অন্তত ১৮০ কোটি টাকা জাল জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মসনদ তৈরি করে আত্মসাত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজন প্রায় ৩০ কোটি টাকা কানাডায় পাচার করেছেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, সাবেক উপ-পরিচালক ফারজানা পারভিন ক্ষমতার অপব্যবহার করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাত করেন। তার স্বামীও প্রভাবশালী পদে থাকায় প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সহকারী পরিচালক নুরুজ্জামান চৌধুরী (বর্তমানে ডিডি, শেরপুর), মো. জোয়াহের আলী মিয়া (অবসরপ্রাপ্ত), গৌরীপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নন্দন কুমার দেবনাথ, সাবেক ত্রিশাল উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আবু জুলহাস, ফুলবাড়ীয়া উপজেলার সাবেক কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ ও গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।
মামলার আবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালের ২০ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্বে থাকাকালে অভিযুক্তরা প্রশিক্ষণ না দিয়েই ভুয়া ক্লাস দেখিয়ে বিপুল অর্থ উত্তোলন করেন। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রতিদিন দুই ব্যাচে প্রশিক্ষণ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি।
বরং ভুয়া উপস্থিতি ও জাল ভাউচারের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
তদন্তে দেখা গেছে, একাধিক কর্মকর্তা একই দিনে কয়েকশ’ কিলোমিটার দূরের একাধিক স্থানে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ভুয়া তথ্য দিয়েছেন, যা বাস্তবে সম্ভব নয়। বিভিন্ন কর্মকর্তার নামে শত শত ক্লাস দেখিয়ে সম্মানী তোলা হয়েছে।
এছাড়া সরকারি ব্যাংকের পরিবর্তে বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে জন্মনিবন্ধন ব্যবহার করে ভুয়া হিসাব খুলে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে। ত্রিশাল উপজেলায় জেলা প্রশাসকের গঠিত তদন্ত কমিটিও ভুয়া হিসাবের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের প্রমাণ পেয়ে ৫৩ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরতের সুপারিশ করে।
অভিযোগকারী জানান, পূর্বে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে তদন্ত প্রতিবেদন গোপন রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে জনস্বার্থে আদালতে মামলা করা হয়।
এ বিষয়ে সাবেক উপ-পরিচালক ফারজানা পারভিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি এবং পাঠানো বার্তারও জবাব দেননি। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা উল্লেখ করা হয়েছে। মামলা নম্বর- ০১/২০২৩ ইং।
আপনার মতামত লিখুন :