শিশুশিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ: শিক্ষককে জুতার মালা পরিয়ে শাস্তি

আলম চৌধুরী , সিনিয়র রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ৫নং দক্ষিণ ঝলম ইউনিয়নের মির্জাপুর নরহরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক ঘৃণ্য ও অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহবুবুল ইসলাম জুয়েলের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক নাবালিকা ছাত্রীকে জড়িয়ে ধরে যৌন হয়রানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী ছাত্রীটি মাত্র ১০-১১ বছরের শিশু।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিক্ষক মাহবুবুল ইসলাম জুয়েল ছাত্রীটিকে রোল নম্বর ১ এবং বৃত্তি পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে স্কুলের ছুটির দিনে বিদ্যালয়ে আসতে বলেন। শিশুটি সেই লোভে স্কুলে গেলে শিক্ষক তাকে একা পেয়ে জড়িয়ে ধরে অনৈতিক আচরণ করেন এবং যৌন হয়রানির চেষ্টা চালান। ভয়ে আতঙ্কিত শিশুটি কোনোমতে দৌড়ে বাড়িতে চলে যায় এবং অভিভাবকদের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। মনোহরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম হাসান অপু, আহ্বায়ক সদস্য মিজানুর রহমান শাকিল, ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা মাইদুল ইসলাম মুন্না, এবিএম মাহমুদুর রহমানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ঘটনাটি জানার পর তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। অভিযুক্ত শিক্ষককে ছাত্রদল নেতারা তার গলায় জুতার মালা পরিয়ে প্রকাশ্যে শাস্তি দেন। এ সময় শিক্ষক মাহবুবুল ইসলাম জুয়েল সব অভিযোগ স্বীকার করে নেন।

ছাত্রদল নেতারা বলেন, এমন অমানবিক ও নৃশংস ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন শিক্ষক যিনি শিশুদের অভিভাবকের মতো হওয়ার কথা, তিনি নিজেই শিশুর নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবেন—এটা মেনে নেওয়া যায় না। পরে ছাত্রদল নেতারা উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে ঘটনাটি অবহিত করেন এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান।

এদিকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রশাসন যে ব্যবস্থা নেবে, স্কুলের পক্ষ থেকে সেই একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত শিক্ষক মাহবুবুল ইসলাম জুয়েল আগে যে স্কুলে কর্মরত ছিলেন, সেখানকার শিক্ষকরা জানিয়েছেন, অনুরূপ অভিযোগে তাকে আগেই বিতাড়িত করা হয়েছিল। কিন্তু সেই তথ্য এ স্কুলে যোগদানের সময় গোপন রাখা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

শিশু ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসন যেন এ ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে দেখে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়। শিশুরা যেন স্কুলে নিরাপদে পড়াশোনা করতে পারে, সেটাই আমাদের একমাত্র দাবি।

ঘটনাটি নিয়ে পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, শিক্ষকের এমন আচরণে শিশুদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে।

Advertisement

Link copied!