মিরসরায়ে বৃষ্টিতে তরমুজখেত প্লাবিত, বড় ক্ষতির মুখে চাষিরা

নুর হোসেন মিয়া , মিরসরাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল, ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম

চট্টগ্রামের মিরসরায়ে টানা বৃষ্টিতে তরমুজখেত প্লাবিত হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন তরমুজ চাষিরা। নিচু জমিতে পানি জমে পাকা, আধা পাকা ও কচি তরমুজ এবং গাছ পচে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, এতে চরম উদ্বেগে দিন কাটছে চাষিদের।

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলা থেকে প্রায় শত কিলোমিটার দূরে এসে তরমুজ চাষ করেন মোহাম্মদ সোহেল রানা। গতবারের সফলতার আশায় এবারও তিনি মিরসরাই বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের পাশে প্রায় ৫ হেক্টর জমিতে গ্লোরি জাম্বু, বেঙ্গল কিং, ড্রাগন কিং ও গ্রীণ ড্রাগন জাতের তরমুজ আবাদ করেন। তাঁর সঙ্গে প্রায় ২০ জন শেয়ারদারও যুক্ত রয়েছেন। তবে গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে পুরো জমি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে পাকা, আধা পাকা ও কচি তরমুজ পানির নিচে ডুবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এখনো ফল তোলা শুরু করতে পারেননি চাষিরা। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল ঈদুল ফিতরের পর ধাপে ধাপে তরমুজ বাজারজাত করার।

কৃষকেরা জানান, একেকজন শেয়ারদার ২০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করেছেন। অনেকেই ব্যাংক, এনজিও ও আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এই চাষে নেমেছেন। কিন্তু পানি দ্রুত নিষ্কাশন করে সময়মতো ফসল তুলতে না পারলে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

উপজেলার ইছাখালী, মিঠানালা ও সাহেরখালী ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ তরমুজখেত পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এতে নষ্ট হচ্ছে তরমুজ, পচে যাচ্ছে গাছ-লতা। দিনভর কৃষকেরা সেচের মাধ্যমে পানি সরানোর চেষ্টার পাশাপাশি তরমুজের তলায় খড় দিয়ে পানি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার প্রতাপ চন্দ্র রায় জানান, চলতি মৌসুমে মিরসরাইয়ের হিঙ্গলী, ওসমানপুর, ধুম, ইছাখালী, মিঠানালা ও সাহেরখালী – এই ছয় ইউনিয়নে প্রায় ৭৫ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। এতে কয়েক কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে কৃষকদের। জমি ইজারা নেওয়া নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চাষিদের দেখাদেখি স্থানীয়রাও এ চাষে যুক্ত হয়েছেন। যেসব এলাকায় তরমুজ পুষ্ট হয়েছে চাষীরা সেসব তরমুজ দ্রুত বিক্রি করলে ক্ষতি কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

Advertisement

Link copied!