কুমিল্লা সদর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কচুয়া চৌমুহনী লাকসাম রোডের মেইন সড়কে অবৈধভাবে ময়লার স্তূপ ফেলার কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও ব্যবসায়ীরা। যেখানে ময়লা ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, সেখানে নিয়ম অমান্য করে প্রতিনিয়ত ময়লা ফেলা হচ্ছে বলে সরেজমিনে তদন্তে উঠে এসেছে।
এ বিষয়ে ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ভারপ্রাপ্ত কাউন্সিলরের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এলাকার অধিকাংশ ময়লাই আসে স্থানীয় বয়লার মুরগির দোকানগুলো থেকে। বিশেষ করে ‘হাজী আনু মিয়া পোল্ট্রি ফার্ম’ থেকে নিয়মিতভাবে এখানে মুরগির বর্জ্য ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একাধিকবার নিষেধ করা হলেও তা উপেক্ষা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মুরগির বর্জ্য জমে ভয়াবহ দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা পরিবেশ ও বায়ু দূষণের মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। পাশেই অবস্থিত একটি মসজিদের মুসল্লিরা জানান, দুর্গন্ধের কারণে স্বাভাবিকভাবে নামাজ আদায় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এছাড়াও, নিকটস্থ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাজী আকরাম উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। এখানে কুমিল্লার সবচেয়ে বড় কাঁচাবাজার বসে প্রতিদিন বিকেল বেলা। দুর্গন্ধ ও নোংরা পরিবেশের কারণে তাদের চলাচল কষ্টকর হয়ে উঠেছে। আশপাশের ব্যবসায়ীরাও জানিয়েছেন, এ অবস্থায় ব্যবসা পরিচালনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু ময়লার স্তূপের কারণে পথচারী ও যাত্রীদের জন্য চলাচল অত্যন্ত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাজী আনু মিয়া পোল্ট্রি ফার্মের স্বত্বাধিকারী মো: মোতাহের হোসেনের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এমতাবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
আপনার মতামত লিখুন :