খাগড়াছড়িতে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী প্রধান উৎসব ও বাংলা নববর্ষ উদযাপন

অজয় সেন ত্রিপুরা , খাগড়াছড়ি জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:৫২ পিএম

বর্ণাঢ্য আয়োজনে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী প্রধান উৎসব বৈসু, সাংগ্রাই, বিজু, পাতা ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় উদযাপন শুরু হয়েছে। বহুমাত্রিক কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সমন্বয়ে আয়োজিত এ উৎসবকে ঘিরে প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো জনপদ।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের ব্যবস্থাপনায় এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা।

মঙ্গলবার সকাল ৯টায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। র‍্যালিটি শাপলা চত্বর হয়ে খাগড়াছড়ি টাউন হল প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। পরে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে টাউন হল প্রাঙ্গণে পাহাড়ি ও বাঙালি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে ঐতিহ্যবাহী ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়, যা উপস্থিত দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ে।

বিকাল ৫টা থেকে শুরু হবে দ্বিতীয় পর্বের আয়োজন। এতে পাজন রান্নার প্রতিযোগিতা, চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর কোমড় তাঁত শিল্পের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে।

উৎসবের দ্বিতীয় দিন বুধবার সকাল ১০টায় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং বিকাল ২টায় রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই দিন বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।

উৎসবের সমাপনী দিন বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে তিনদিনব্যাপী এ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটবে। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী নিজ নিজ ঐতিহ্য ও রীতিনীতি অনুসরণ করে এ উৎসব উদযাপন করে থাকে। আগামী ১২ এপ্রিল শুরু হবে চাকমা সম্প্রদায়ের ফুল বিঝু। ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের হারি বৈসু শুরু হবে ১৩ এপ্রিল এবং একই দিনে মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই উৎসব শুরু হবে। এছাড়াও পাহাড়ে বসবাসরত অন্যান্য জনগোষ্ঠীও নিজস্ব ঐতিহ্য অনুযায়ী এ উৎসব পালন করে থাকে।

আয়োজকরা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের এসব উৎসব শুধু আনন্দ আয়োজন নয়, বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে সুদৃঢ় করার এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ ধরনের আয়োজন পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি এবং সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

Advertisement

Link copied!