কক্সবাজারের চৌফলদণ্ডীতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে বৃদ্ধাসহ আহত চার

আতিকুর রহমান , ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম

কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের পশ্চিম মাঝেরপাড়া এলাকায় রোববার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাসহ চারজন আহত হয়েছেন।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে চৌফলদণ্ডী এলাকায় স্থানীয় জিয়া বাহিনীর নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী সক্রিয়। ঘটনার দিন তারা জাকির আহমদের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সন্ত্রাসীরা ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ির ভেতরে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে জাকির আহমদের মা আনোয়ারা বেগম (৬০) গুলিবিদ্ধ হন এবং হাসিনা বেগম, রাজিয়া বেগম ও তনজিয়া আক্তার নামে আরও তিনজন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিচার চেয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী জাকির আহমদ বলেন, "জিয়া বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে আমাদের এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে আসছে। তারা নিয়মিত চাঁদাবাজি, জমি দখল, চিংড়ি ঘের দখলসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা সাধারণ মানুষ তাদের ভয়ে মুখ খুলতে পারি না। প্রতিবাদ করলেই আমাদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়।"

জাকির আরও জানান, তারা থানায় মামলার জন্য এজাহার জমা দিয়েছেন এবং মামলা রেকর্ড করা হয়েছে।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, জিয়া বাহিনীর দৌরাত্ম্যে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে বলে তারা দাবি করেন। এ ঘটনায় তারা দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনার পর পুরো পশ্চিম মাঝেরপাড়া এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নারী ও শিশুদের মধ্যে ভয়ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই নিরাপত্তার অভাবে ঘর থেকে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।

এবিষয়ে কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সমি উদ্দিন জানান, এ বিষয়ে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি এলাকাবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং তারা স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরতে পারবে।

Advertisement

Link copied!