নকল করলে কেন্দ্র সচিব ও প্রতিষ্ঠান প্রধানকে আইনের আওতায় আনা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

ফয়সাল মুবিন পলাশ , ভ্রাম্যমাণ সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, পরীক্ষা চলাকালে কোনো প্রতিষ্ঠানে নকল পাওয়া গেলে কেন্দ্র সচিবকে আইনের আওতায় আনা হবে। এমনকি প্রতিষ্ঠানের বাথরুমেও যদি কোনো নকল পাওয়া যায়, তার জন্য প্রতিষ্ঠান প্রধানকে জবাবদিহি করতে হবে। বাইরে থেকে কেউ নকলের সহযোগিতা করলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। কোনোভাবেই কাউকে নকল করতে দেওয়া হবে না; নকলে সহযোগিতা করতে দেওয়া হবে না। যদি কোনো শিক্ষক খাতা দেখায় দুর্বলতা করেন – ইচ্ছাকৃতভাবে কাউকে নম্বর কম দেওয়া বা বাড়িয়ে দেওয়া হয়, সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আইন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো ধরনের পরীক্ষাতেই আর নকল করার কোনো সুযোগ নেই। সেটা পাবলিক পরীক্ষা হোক কিংবা চাকরির ইন্টারভিউ – সব পরীক্ষাতেই একই আইন বলবৎ থাকবে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়ামে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা অঞ্চলের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ২০০১ সালে নকলের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছিল কুমিল্লার আমড়াতলী স্কুল থেকে। সেখানে দুইজন শিক্ষককে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। সেসময় ক্রমান্বয়ে পুরো দেশকে নকলমুক্ত করা হয়েছিল। এই নকলের বিরুদ্ধে অভিযানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাকে সবসময় সাহস যুগিয়েছেন; অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানও আমাকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন; অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছেন নকলের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে। তার একটাই এজেন্ডা – আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে। সেই এজেন্ডা বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে ব্যাপক ভূমিকা নিতে হবে।

শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা যদি শিক্ষার্থীদেরকে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন – তাহলে আপনারা সদকায়ে জারিয়া পাবেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলেই সদকায়ে জারিয়ার সওয়াব পাবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় হচ্ছে আমার কাছে এবাদতখানা। সেই এবাদতখানার দায়িত্ব আমি পেয়েছি। সেখানে আপনাকে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের আর দশটা মন্ত্রণালয়ের মতো নয়। এখানে অসৎ কাজ করা যায় না। এ মন্ত্রণালয়ে আমার সঙ্গে কাজ করছেন শ্রদ্ধেয় শিক্ষকগণ।

নকলের ডেট অব বার্থ ১৯৭২। ৭২ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত কারা নকল করছিল। সেই নকলের মূল উৎপাটন করেছিলাম। কিন্তু তা পুনরায় চালু করলো কারা?

২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত আমি তো আমেরিকা থেকে শিক্ষক ইমপোর্ট করিনি। আপনারাই (শিক্ষক) তো নকলমুক্ত করতে সহযোগিতা করেছিলেন। তাহলে পুনরায় কেন নকলের প্রাদুর্ভাব বাড়লো? তার মানে কি আপনারা সরকার যেভাবে চায় সেভাবেই চলেন? আমরা জানি, স্টিয়ারিং যেহেতু সরকারের হাতে – সুতরাং আপনারা সেভাবেই চলেন। মাঝখানের সময়টাতে সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেল। তবে এখন আর নকলের সুযোগ হবে না। শিক্ষার্থীদেরকে যত্ন সহকারে মনোযোগ দিয়ে পড়াতে হবে।

Advertisement

Link copied!