মাস্টাররোল কর্মচারীর নামে-বেনামে কোটি টাকার সম্পদের পাহাড়

অনিক খাঁন , সিনিয়ির রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম

রাজধানীর মিরপুর পশ্চিম মণিপুর এলাকায় একটি বহুতল ভবনে ফ্ল্যাট, দোকান ও নিজ গ্রাম কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী তে ডুপ্লেক্স বাড়িসহ নামে-বেনাম সম্পদের পাহাড় কে কেন্দ্র করে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের এক মাস্টাররোল কর্মচারীর আয়-সম্পদের উৎস নিয়ে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কাজল নামে পরিচিত, যিনি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কাওরান বাজার শাখায় মাস্টাররোলে দৈনিক হাজিরায় কর্মরত বলে জানা গেছে।

জানা যায়, মিরপুরের পশ্চিম মণিপুরে ১৪৬ নং হোল্ডিংয়ের জমির মালিক জহুরুল ইসলাম ভূঁইয়া দীর্ঘ ২৫ বছরের প্রবাস জীবনের উপার্জিত অর্থ দিয়ে জমিটি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে অর্থ সংকটের কারণে তিনি “ওলিজা প্যারাডাইস” নামক একটি বিল্ডার্স প্রতিষ্ঠানের সাথে ভবন নির্মাণের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন।

অভিযোগ রয়েছে, ওই ভবনের তৃতীয় তলায় একটি ফ্ল্যাট এবং একই সড়কে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান কাজল নামে ওই কর্মচারীর দখলে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফ্ল্যাটটির বর্তমান মূল্য প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকারও বেশি এবং দোকানটির মূল্য প্রায় ১৭ লক্ষ টাকার আশেপাশে এছাড়াও নামে-বেনামে সম্পত্তি ও তার নিজ এলাকার বাড়ির মূল্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি

একজন মাস্টাররোল কর্মচারীর পক্ষে এত বড় অঙ্কের সম্পদ কীভাবে অর্জন সম্ভব—এ নিয়ে এলাকাজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনুসন্ধানের এক পর্যায়ে কাজলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। কিন্তু প্রতিবেদককে জানান হেমায়েতপুরের একটি জমি বিক্রয় করে এই ফ্ল্যাটটি ক্রয় করেছেন কিন্তু এর স্বপক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে অপারগতা জানান এবং অর্থের উৎসের বিষয়ে তার বক্তব্য থেকেও স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে “ওলিজা প্যারাডাইস”-এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়। অপরদিকে, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একজন ইঞ্জিনিয়ার মোঃ পলাশের সাথে ফোনালাপে তিনি " চুনোপুটি বাদ দিয়ে আরও রাঘব বোয়াল আছে সেগুলো ধরার বিষয়ে প্রতিবেদক কে পরামর্শ দেন" বিষয়টিতে আরও অস্পষ্টতা ও প্রশ্নের উদ্ভব হয়।

জমির মালিক জহুরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পুরো বিষয়টি নিয়ে তিনি নিজেও বিভ্রান্ত এবং যথাযথ তদন্তের দাবি জানান।

অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠে এসেছে যে, পূর্ববর্তী সময়ে সিটি কর্পোরেশনে চাকরির সুবাদে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে কাজল নামে ওই ব্যক্তি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।

মিরপুর পশ্চিম মণিপুরের এই ঘটনায় একজন স্বল্প আয়ের কর্মচারীর বিপুল সম্পদ অর্জন নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা এখন জনমনে কৌতূহলের পাশাপাশি তদন্তের দাবি জোরদার করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ অনুসন্ধানই প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সহায়ক হতে পারে।

Advertisement

Link copied!