স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে, কিন্তু স্বৈরাচারের ভূত এখনো এই দেশে রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের সন্তোষে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই দিন আগে আপনারা দেখেছেন, সমগ্র দেশের মানুষ দেখলো বাংলাদেশের দুটি জায়গায় এক শেরপুর দুই বগুড়ার একটি আসনে উপনির্বাচন হয়েছে। হ্যাঁ হয়তোবা অবাঞ্ছিতভাবে দুই-একটি ছোটখাট ঘটনা ঘটেছে। আমি দুই দিন আগে নির্বাচন হওয়ার পরে বাংলাদেশের সকল পত্রিকাগুলো ঘাঁটাঘাঁটি করলাম, পত্রিকার কোনো খবরই কিন্তু কোনো জায়গায় কোনো অবাঞ্ছিত ঘটনা ঘটেছে, কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে- তেমন কোনো নিউজ নাই। ছোটখাট একটা-দুইটা হালকা ঘটনা আছে নিউজে। তবে অভিযোগ করার মতো কোনো পত্রিকায়, বাংলাদেশের যত বড় বড় পত্রিকা আছে নিউজ নাই। কিন্তু পরিস্থিতি গরম কোথায়? বায়তুল মোকাররমে। যেখানে ঘটনা ঘটেছে সেখানে কোনো খবর নাই। পরিস্থিতি গরম হচ্ছে বায়তুল মোকাররমে। তারা পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, স্বৈরাচার পালিয়ে গেছে, কিন্তু স্বৈরাচারের ভূত কিন্তু এখনো রয়ে গেছে এই দেশে। কাজেই আমাদের সকলকে সজাগ থাকতে হবে। আমাদের সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। যাতে জনসম্পৃক্ত যে সকল কর্মসূচি আছে, এই কর্মসূচিগুলো বাধাগ্রস্ত হতে না পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখেছি অতীতে কীভাবে দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতিকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। আমরা দেখেছি অতীতে কীভাবে গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। গণতন্ত্রের কথা বলে, জনগণের কথা বলে, জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ কারা করেছিল, কি কি কাজ করেছে এগুলো আমাদের জানা আছে। কাজেই আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, জুলাই সনদ সই করার জন্য সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ড. ইউনুস যখন ডেকেছিল, সবচেয়ে প্রথমে বিএনপি গিয়েছিল। বিএনপি জুলাই সনদে সই করেছিল। কাজেই যেই জুলাই সনদ বিএনপি সই করে এসেছে, সেই জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর, প্রত্যেকটি শব্দ, প্রত্যেকটি লাইন ইনশাআল্লাহ আমরা বাস্তবায়ন করবো।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছে দেশ পরিচালনা করার জন্য। কাজেই সনদ যেটি বিএনপি সই করে এসেছে, যেই সনদে অন্যরাও সই করে এসেছে। আমরা দেখেছি এই যে এখন যারা বিরোধী দলে আছে, প্রথমবার দেখলাম তারা গেল, করবে কি করবে না একটু ঢেলেঢালা। আর তাদের সাথে আরেকটা দল আছে, তারা তো তখন সই করে নাই, তাদেরকে দেখলাম নির্বাচনের পরে গিয়ে হঠাৎ করে সই করলো। সবচেয়ে প্রথমে জুলাই বিএনপি সই করেছে। যারা নির্বাচনের পরে সই করলো, জুলাই সনদের জন্য যারা গলা ফাটায়ে ফেলে তাদেরকে তো আমরা প্রশ্ন করতে পারি- এতই যদি তোমাদের দরদ হয়, তাহলে তোমরা প্রথমে কেন সই করলা না ভাই।
তারেক রহমান বলেন, যারা বিএনপির খাল খনন, বিএনপির ফ্যামিলি কার্ড, বিএনপির কৃষক কার্ড, পেশাদার খেলোয়াড় তৈরিসহ জনগণের জনকর্মসূচিগুলোকে বাধাগ্রস্ত করবে, বিএনপি জনগণকে সাথে নিয়ে তাদেরকে প্রতিহত করবে। আজকে আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে, আজকে আমাদেরকে সতর্ক থাকতে হবে- স্বৈরাচারের ভূত কাদের ওপরে আবার ধীরে ধীরে আছর করছে, কারা আবার দেশে অরাজকতা তৈরি করতে চাচ্ছে।
তিনি বলেন, এই বাংলাদেশ আমার আপনার আমাদের সকলের শেষ ঠিকানা। এ দেশেই আমরা জন্মেছি, এ দেশেই আমাদেরকে মরতে হবে। বিদেশে কোনো আমাদের ঠিকানা নাই। এই দেশেই আমাদের ঠিকানা। যেহেতু এই দেশ ঠিকানা, সেহেতু এই দেশটিকে আমাদেরকেই গড়ে তুলতে হবে। এই দেশটিকে আমাদেরকেই ঠিক করতে হবে। জনগণকে সাথে নিয়ে সকলকে একসাথে নিয়ে আমরা এই দেশকে ইনশাআল্লাহ গড়ে তুলবো। এই দেশকে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলবো। আমাদেরকে সজাগ থাকতে হবে সেই সকল দলগুলোর বিরুদ্ধে, সেই সকল মানুষগুলোর বিরুদ্ধে, যারা বিভ্রান্তি ছড়াতে চায়।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন,মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু, মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ প্রমুখ।
এর আগে বিকেল ৫টার দিকে সন্তোষে অবস্থিত মওলানা ভাসানীর মাজার প্রাঙ্গণে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথমে সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তিনি। পরে তিনি কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্য, স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে দুপুরে টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ড প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আপনার মতামত লিখুন :