জাবিপ্রবিতে হল ফি সংক্রান্ত জটিলতায় পরীক্ষা দিতে পারলো না শিক্ষার্থীরা

ইয়াসির আরাফাত , জাবিপ্রবি সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) হল ফি জমাদান জটিলতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে পরীক্ষা দিতে পারেনি গণিত বিভাগের শিক্ষার্থীরা। গত বুধবার (১৫ই এপ্রিল) পরীক্ষা দিতে এসে এমন ঘটনায় হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পূর্বপ্রকাশিত রুটিন অনুযায়ী বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় বর্ষ প্রথম সেমিস্টারের প্রথম পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। সেমিস্টার ফি ও ভর্তি ফি জমা দিয়েই পরীক্ষার হলে প্রবেশ করার পর পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান কর্তৃক অনিবার্য কারণ দেখিয়ে পরীক্ষা স্থগিত ও পিছিয়ে দেওয়ার নোটিশ পায় শিক্ষার্থীরা। এমন ঘটনায় স্তব্ধ ও ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে পরীক্ষা প্রস্তুতি নিয়ে আসা শিক্ষার্থীরা। স্থগিতের কারণ হিসেবে হল ফি পরিশোধ না করায় প্রভোস্টের অনুমতি মেলেনি বলে জানায় পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান।

খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, গত ৩০ মার্চ প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী পরীক্ষার ফর্ম ফি এবং ৬ এপ্রিল প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ভর্তি ফি জমা দেয় শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে গত ১২ এপ্রিল বিজয়-২৪ হলের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ধার্যকৃত নতুন হল ফি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ার ব্যাপারে পরীক্ষার পূর্বে শিক্ষার্থীদের অবগত না করলেও পরীক্ষার হলে হঠাৎ ফি'র প্রসঙ্গ তুলে পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে পরীক্ষা স্থগিতের নেপথ্যে থাকা হল ফি জমা দিতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত জনতা ব্যাংক পিএলসি কর্তৃপক্ষ জানায়, হল ফি প্রসঙ্গে কোনো নোটিশ পায়নি ব্যাংক।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ইকরাম মাহমুদ প্রধান বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছিল হল প্রভোস্ট স্যার হল ফি ছাড়া স্বাক্ষর করবেন না। আমরা তাৎক্ষণাত হল ফি জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংকে গেলে তারা জানায় এমন কোনো নোটিশ তারা পায়নি, তাই আমরা হল ফি জমা দিতে পারিনি এবং নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষার হলে অপেক্ষা করতে থাকি। অথচ পরীক্ষা শুরুর ৫ মিনিট পূর্বে আমাদের জানায় পরীক্ষা স্থগিত করে পেছানো হয়েছে। শিক্ষকদের জিজ্ঞাসা করলে তাঁরা জানান, হল ফি প্রদান সম্পর্কিত সমস্যার কারণে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। এতো কষ্ট করে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে এমন তুচ্ছ কারণে পরীক্ষা না দিতে পেরে আমরা হতাশ। এমন অব্যবস্থাপনার তীব্র নিন্দা জানাই।’

আরেক শিক্ষার্থী ইসতিয়াক আহমেদ সম্রাট বলেন, ‘আমরা সবাই পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েই ক্যাম্পাসে এসেছিলাম। প্রশাসনে এমন নোটিশের কারণে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেল। কারণ আমাদের এখানে এমনিতেই সেমিস্টারের একটা গ্যাপ আছে, তারপর যদি আমাদের পরীক্ষা এভাবে স্থগিত হয় তাহলে তো আমরা পিছিয়ে পড়বো। কবে নাগাদ ও কিভাবে কোন একাউন্টে টাকা জমা দেবো এমন নোটিশও এখন পর্যন্ত স্পষ্ট করা হয়নি। এর কারণে আমাদের পড়াশোনার গতিও অনেকটা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কারণ আমরা সবাই প্রস্তুতি গ্রহণ করেই ক্যাম্পাসে এসেছিলাম। প্রশাসনের অদূরদর্শীতাই আজকের সমস্যার মূল কারণ বলে আমি মনে করি।’

জনতা ব্যাংক পিএলসি'র জাবিপ্রবি শাখা ব্যবস্থাপক মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ‘হল ফি জমা নেওয়ার ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় বা হল কর্তৃপক্ষ থেকে আমরা কোনো নোটিশ পাইনি।’

এ ব্যাপারে পরীক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক তোজাম হোসেন বলেন, ‘ফর্ম ফিলাপ কমপ্লিট হয়নি এজন্য পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। আমরা আর কি বলবো, আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। ফর্ম ফিলাপ না হলে তো পরীক্ষা নেওয়া যাবে না। পরীক্ষা নিলে পরে অন্য জটিলতা তৈরি হবে।’

বিজয়-২৪ হলের ভারপ্রাপ্ত প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ফরহাদ আলী বলেন, ‘এটা রেজিস্ট্রার দপ্তর ও ডিপার্টমেন্টের ইস্যু, হলের কোনো ব্যাপার না। এই নোটিশের প্রেক্ষিতে হল ফি ছাড়া তো আমি স্বাক্ষর দিতে পারি না। এটা নিয়মের মধ্যে যায় না, ওরা পরীক্ষা না দিতে পারার ব্যাপারটি বিভাগীয় চেয়ারম্যান দেখবে প্রভোস্ট না।’

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নুর হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না—একেবারেই না।’

Advertisement

Link copied!