জ্বালানি সংকটে রাজধানীতে ২০ শতাংশ বাস উধাও

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল, ২০২৬, ০১:২৫ পিএম

রাজধানীতে তীব্র জ্বালানি সংকটের প্রভাবে গণপরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়া এবং পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের কারণে রাজধানীর প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এই সুযোগে সরকারি ঘোষণা ছাড়াই অনেক রুটে চালক ও হেলপাররা ইচ্ছেমতো বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে অফিসফেরত যাত্রীসহ সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির হিসাব মতে, রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার বাস চলাচল করে। কিন্তু বর্তমানে ডিজেল সংকটের কারণে ২০ শতাংশেরও বেশি বাস সড়কে নামছে না। শুভযাত্রা পরিবহনের চালক বিল্লাল হোসেন জানান, প্রতিদিন তেল সংগ্রহ করতে পাম্পেই ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা ব্যয় হচ্ছে, যা আগে ট্রিপ দেওয়ার কাজে ব্যয় হতো। রাইদা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মকবুল হোসেন পাটোয়ারী জানান, পাম্পগুলো এখন চাহিদামতো তেল দিচ্ছে না; ৫ হাজার টাকার তেলের স্থলে ৩ হাজার টাকার বেশি দিতে চাচ্ছে না। ফলে বাসের ট্রিপ সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

সরকারিভাবে ভাড়া পুনর্নির্ধারণের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না থাকলেও রাজধানীর বিভিন্ন রুটে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। দূরপাল্লার বাসে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। ভাড়া নিয়ে প্রতিবাদ করলে চালক ও হেলপারদের সাথে যাত্রীদের বাগবিতণ্ডা ও অপদস্থ করার ঘটনাও ঘটছে। যাত্রীদের অভিযোগ, দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যয়বহুল হয়ে উঠলেও তাঁদের আয় বাড়েনি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রাজধানীর ও দূরপাল্লার অনেক বাসই সিএনজি চালিত। কিন্তু তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে এই বাসগুলোতেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। সাধারণ যাত্রীদের পক্ষে কোনটি ডিজেল চালিত আর কোনটি সিএনজি চালিত তা শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় এই সুযোগটি নিচ্ছে একশ্রেণির অসাধু পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। একই প্রবণতা দেখা গেছে লেগুনা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা এবং রাইড শেয়ারিং সেবাতেও।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির অতিরিক্ত মহাসচিব এ এম এস আহমেদ খোকন জানান, বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কোনো নির্দেশনা সমিতি থেকে দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম এক বিবৃতিতে সকল মালিককে সরকারি সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বর্তমান ভাড়াই বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তিনি ডিজেলের মূল্য লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধি এবং ডলারের কারণে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত ভাড়া সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছেন।

ভাড়া নির্ধারণ ও বর্তমান সংকট নিরসনে আজ বুধবার (২২ এপ্রিল ২০২৬) মন্ত্রণালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যাত্রীকল্যাণ সংগঠনগুলোর দাবি, ভাড়া সমন্বয়ের প্রক্রিয়াটি যেন স্বচ্ছ ও যৌক্তিক হয়, যাতে সাধারণ যাত্রীদের ওপর অন্যায্য চাপ না পড়ে।

Link copied!