পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজ চেম্বারেই হামলা ও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন এক নারী চিকিৎসক। ঘটনাটি ঘটেছে গত ২২ এপ্রিল টঙ্গীর ‘জমিলা জেনারেল হাসপাতাল এন্ড ফার্টিলিটি কেয়ার সেন্টার’-এ, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগী গাইনি ও প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. আফরোজা আক্তার জানান, ওইদিন ‘তানহা’ নামের এক রোগী তার মায়ের সঙ্গে ফলিকুলোমেট্রি পরীক্ষার জন্য তার কাছে আসেন। রোগীর শারীরিক অবস্থার কারণে ডিম্বাণু বৃদ্ধিতে সময় লাগতে পারে—এ বিষয়ে দীর্ঘ সময় ধরে কাউন্সিলিং করা হলেও রোগীর স্বজনরা তা মেনে নিতে না পেরে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।
একপর্যায়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কয়েকজন বখাটে যুবকসহ রোগীর স্বজনরা চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। অভিযোগ রয়েছে, তারা চিকিৎসকের টেবিলে থাকা ফাইল দিয়ে আঘাতের চেষ্টা করে এবং ধাক্কা দিয়ে শ্লীলতাহানি করে। এ সময় তার গলার চেইন ছিঁড়ে নেওয়া এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
ডা. আফরোজা আক্তার তার লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ২০০২ সাল থেকে তিনি সুনামের সঙ্গে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছেন। করোনাভাইরাস মহামারীর সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কোভিড ডেডিকেটেড ইউনিটে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি ও তার স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা আক্রান্ত হয়েছিলেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের মানুষের সেবা দেওয়ার পরও কর্মস্থলে নিরাপত্তাহীনতায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ঘটনার পর গাছা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী চিকিৎসকসহ সচেতন মহল।
আপনার মতামত লিখুন :