গাজীপুরের টঙ্গীতে এক রাতেই নিভে গেল দুই প্রাণ, একটি পরিবারের স্বপ্ন, সংগ্রাম আর ভবিষ্যৎ। ঘুমন্ত ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যার পর নিজেই ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন পিতা।
দিবাগত গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনায় স্তব্ধ পুরো এলাকা। নিহত সাকিব (১৮), উত্তরার একটি বেসরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। মায়ের মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরেছিলেন এই তরুণ। পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করে পরিবারকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা ছিল তার প্রতিদিনের লড়াই। কিন্তু সেই লড়াই থেমে গেল এক নির্মম রাতে, নিজ বাবার হাতেই।
অভিযুক্ত পিতা সোহেল (৫০), পেশায় রাজমিস্ত্রি, দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, গভীর রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় ছেলের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান তিনি। ঘটনাস্থলেই ছেলের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত বাড়ি ছেড়ে রেললাইনে গিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মেহেদী হাসান জানান, “প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক সংকট ও মাদকাসক্তির ফল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্ত চলছে।”
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের দাবি—মাদক শুধু একজন মানুষকে নয়, ধ্বংস করছে পুরো পরিবার ও সমাজকে। টঙ্গীর এই ট্র্যাজেডি সেই ভয়াবহ বাস্তবতার আরেকটি রক্তাক্ত প্রমাণ।
আপনার মতামত লিখুন :