টঙ্গীতে রক্তাক্ত পারিবারিক ট্র্যাজেডি: বাবা-ছেলে খুন, বড় ছেলে আটক

আখতার হোসেন , বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:১২ পিএম

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে এক রাতে ভয়াবহ পারিবারিক হত্যাকাণ্ডে স্তব্ধ পুরো এলাকা। একই পরিবারের বাবা ও কিশোর ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে বড় ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার (২৬ এপ্রিল) ভোররাতে টঙ্গীর বনমালা এলাকা থেকে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশ ও রেলওয়ে (জিআরপি) পুলিশ।

নিহতরা হলেন—উত্তর দত্তপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. সোহেল (৪৮) তার ছেলে সাকিবুর রহমান শোয়েব (১৭)। আটক হয়েছেন বড় ছেলে সাইফুর রহমান সোহান (২৭)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার রাতে বাবা ও দুই ছেলে একই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোররাতে হঠাৎ চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে ঘরের ভেতরে শোয়েবের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাত, হাতের রগ কাটা এবং মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়ার আলামত পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, বাড়ির পাশের রেললাইনের পাশে উদ্ধার করা হয় বাবা সোহেলের মরদেহ। প্রথমে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হলেও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নে হত্যার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে সিসিটিভি ফুটেজ। এতে রাত ১টা ০৭ মিনিটে দেখা যায়, বড় ছেলে সাইফুর রহমান তার অসুস্থ বাবাকে টেনে-হিঁচড়ে রেললাইনের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।

পুলিশ জানায় , এ ঘটনায় আরও একজন জড়িত থাকতে পারে। তাকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

জানা যায়, নিহত শোয়েব উত্তরার একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করে পরিবারের দায়িত্বে সহায়তা করতেন।

কয়েক বছর আগে টঙ্গীতে বসবাস শুরু করা এই পরিবারটি দেড় বছর আগে শোহেবের মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই নানা সংকটে ছিল বলে জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, “একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দ্রুতই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হবে।”

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোক ও আতঙ্ক। এক রাতেই দুই প্রাণ ঝরে যাওয়ায় ভারী হয়ে উঠেছে টঙ্গীর আকাশ।

 

Advertisement

Link copied!