ছুটির রেকর্ডে ডিআইজি আতাউল কিবরিয়া, ৫ মাসে ২৪ দিন কর্মক্ষেত্রের বাইরে!

নিজস্ব প্রতিবেদক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৫ মে, ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম

বিল্লাল হোসেন মানিক: ময়মনসিংহ সরকারি সেবার চেয়ে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিলাসিতাই কি মুখ্য? ময়মনসিংহের ডিআইজি আতাউল কিবরিয়ার ২০২৬ সালের ছুটির দীর্ঘ পরিসংখ্যান এমন প্রশ্নই উসকে দিয়েছে। চলতি বছরের মাত্র পাঁচ মাসেই তিনি ২৪ দিন কর্মস্থলের বাইরে কাটিয়েছেন, যা একজন দায়িত্বশীল উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার পেশাদারিত্ব নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি করেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ডিআইজি আতাউল কিবরিয়া ১৯ দিন প্রিভিলেজ লিভ (পিএল) এবং ৫ দিন ক্যাজুয়াল লিভ (সিএল) ভোগ করেছেন। ছুটির এই তালিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রায় প্রতি সপ্তাহান্তেই তিনি কোনো না কোনো অজুহাতে কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন।

জানুয়ারি মাসে তিনি ৩ দিন, ফেব্রুয়ারিতে ৫ দিন এবং মার্চে ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে টানা ৭ দিন ছুটিতে ছিলেন। ছুটির এই ধারা অব্যাহত থাকে এপ্রিল ও মে মাসেও; যেখানে তিনি টানা চার সপ্তাহ ছুটির আবেদন করেছেন। বিশেষ করে ৩ মে পর্যন্ত তার ছুটির এই দীর্ঘ তালিকা দেখে অনেকেই বিষ্ময় প্রকাশ করেছেন। প্রশ্ন উঠেছে, একজন ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তা যদি বছরের শুরুতেই এভাবে ছুটির বন্যায় গা ভাসান, তবে পুলিশের প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ড ও জননিরাপত্তার তদারকি কতটুকু সচল থাকে?

শুধু চলতি বছরের ছুটিই নয়, ডিআইজি আতাউল কিবরিয়ার গত বছরের কর্মকাণ্ড নিয়েও শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ৭ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে তিনি রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় সপরিবারে ভ্রমণ করেন।

 গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে, এই ব্যক্তিগত প্রমোদ ভ্রমণে তিনি নির্দ্বিধায় সরকারি গাড়ি ব্যবহার করেছেন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ব্যক্তিগত কাজে বিশেষ করে পর্যটন এলাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সরকারি গাড়ির ব্যবহার সরাসরি ক্ষমতার অপব্যবহার ও নীতিবিগর্হিত কাজ। 

অভিযোগ রয়েছে, গত নির্বাচনে ময়মনসিংহ রেঞ্জের তিনি একটি আসনে পরিদর্শন করেছে ময়মনসিংহ-৬ ফুলবাড়িয়া। সেখানে জামাত বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছে। যা তদন্তকালে প্রমানিত হবে। 

একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার এমন ‘ছুটিবিলাসী’ মনোভাব ও সরকারি সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহার মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের মনোবলকে ক্ষুণ্ণ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। দায়িত্বের চেয়ে ব্যক্তিগত বিলাসিতাকে প্রাধান্য দেওয়ার এই সংস্কৃতি প্রশাসনের স্বচ্ছ ভাবমূর্তির অন্তরায়।

এসব বিষয়ে সত্যতা জানতে ডিআইজি আতাউল কিবরিয়ার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। হোয়াটসঅ্যাপে একাধিক মেসেজ দিলেও কোন উত্তর মেলেনি। 

 ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এমন অনিয়ন্ত্রিত ছুটি ও সরকারি সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

Advertisement

Link copied!