সারোয়ার কবীর ফাহাদ: ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে সম্প্রতি ব্যাপক রদবদল ও প্রশাসনিক সংস্কার করা হয়েছে। একযোগে বদলি করা হয়েছে ৩৩ জনকর্মকর্তা-কর্মচারীকে। তবে এই বিশাল পরিবর্তনের ঝড়েও রহস্যজনকভাবে ‘অস্পর্শনীয়’ রয়ে গেছেন ক্যাশিয়ার হিসেবে পরিচিত আর-১ শাখার উপপরিদর্শক (এসআই) আবু তাহের।
এই একজন কর্মকর্তার খুঁটির জোর কোথায়—তা নিয়ে এখন খোদ পুলিশ বিভাগের ভেতরেই বইছে গুঞ্জনের ঝড়।
রদবদলে তিনি কেন বাইরে?
সূত্র জানায়, প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে এবং স্বচ্ছতা ফেরাতে গত কয়েক দিনে রেঞ্জ কার্যালয়ের বড় একটি অংশ ঢেলে সাজানো হয়েছে। কিন্তু অবাক করার বিষয় হলো, দীর্ঘ সময় ধরে একই পদে জেঁকে বসা এসআই আবু তাহেরের নাম সেই তালিকায় নেই। সহকর্মীদের প্রশ্ন—বাকিদের ক্ষেত্রে যদি নিয়ম কার্যকর হয়, তবে আবু তাহেরের ক্ষেত্রে কেন এই ‘বিশেষ অনুকম্পা’?
পদায়ন বাণিজ্যের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হওয়ার অভিযোগ: অনুসন্ধানে জানা গেছে, এসআই আবু তাহেরের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো—"বদলিবানিজ্য"। রেঞ্জ অফিসের ক্যাশিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালনের আড়ালে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও ‘কামাউ’ থানায় পোস্টিং বা পছন্দের জায়গায় বদলি করার ক্ষেত্রে তিনি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
অভিযোগ আছে: বড় অংকের আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া। প্রভাবশালী মহলের দোহাই দিয়ে অধস্তন ও সমমর্যাদার কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। নিজ এলাকায় (ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দাপুনিয়া) পোস্টিং বজায় রেখে স্থানীয় রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টতা রক্ষা করা।
ক্ষমতার দাপটে কোণঠাসা সৎ কর্মকর্তারা: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একজন এসআই বছরের পর বছর একই দপ্তরে ক্যাশিয়ারের মতো স্পর্শকাতর পদে কীভাবে বহাল থাকেন? বদলি বাণিজ্যের যে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে মুখে মুখে ফিরছে, তা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তার এই প্রভাবের কারণে অনেক সৎ কর্মকর্তা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।”
কর্তৃপক্ষের নীরবতা ও জনমনে প্রশ্ন: এই স্পর্শকাতর বিষয়ে ডিআইজি আতাউল কিবরিয়ার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট জবাব পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের এই নিরবতা অভিযোগের পাল্লাকে আরও ভারী করছে।
সচেতন মহলের মতে, পুলিশ প্রশাসনকে বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখতে হলে এই ‘রহস্যজনক’ অবস্থানের অবসান হওয়া জরুরি। একজন এসআইয়ের একক আধিপত্য আর কতদিন চলবে, নাকি তার পেছনে কোনো ‘অদৃশ্য শক্তির’ হাত রয়েছে—তা এখন সময়ের দাবি।
তদন্তের দাবি: অবিলম্বে এসআই আবু তাহেরের বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম, আর্থিক লেনদেন এবং দীর্ঘকালীন অবস্থানের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করাই হবে স্বচ্ছতার আসল প্রমাণ।
আপনার মতামত লিখুন :