ভৈরবে গ্রীন বয় শসা চাষে কৃষক ইউনুছের সাফল্য

জয়নাল আবেদীন রিটন , ভৈরব প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৮ মে, ২০২৬, ০৪:৫৪ পিএম

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রথম বারের মতো 'গ্রীন বয়' জাতের শসা চাষ করে লাভবান হয়েছেন শিমুলকান্দি ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের কৃষক ইউনুছ মিয়া। গ্রীন বয় জাতের শসার বীজ রোপণের দেড় মাসেই ফলন তুলতে পেরে তিনি। কৃষক ইউনুছ মিয়া জানান, "এ জাতের শসা দেখতে যেমন সুন্দর, আকৃতিও আকর্ষণীয়। বাজারে এ জাতের শসার চাহিদা বেশি।" কৃষি কর্মকর্তা আকলিমা বেগম বলেন, "বাজারে এখন বিভিন্ন কোম্পানির উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ পাওয়া যায়।"

সরেজমিনে জানা গেছে, কৃষক ইউনুছ মিয়া তাঁর ২ বিঘা জমিতে গ্রীন বয় শসা চাষ করেছেন। জমি প্রস্তুত করতে ষাট থেকে সত্তর হাজার টাকা খরচ করার পর তিনি 'গ্রীন বয়' জাতের শসা রোপণ করেন। রোপণের মাত্র ত্রিশ থেকে পঁয়ত্রিশ দিনের মধ্যেই ফলন আসে। অল্প সময়ে ফলন পাওয়ায় কৃষকের উৎপাদন খরচও কম হয়েছে। এ জাতের গাছ জন্মানোর পর তা থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়, ফলে কৃষকরা কম খরচে অধিক ফলন পেয়ে লাভবান হতে পারছেন। দেড় মাস হতেই ফলন কর্তন শুরু করে বাজারজাত করা হচ্ছে। শসার আকর্ষণীয় আকৃতি ও সুন্দর রঙের কারণে বাজারে এর প্রচুর চাহিদা। দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে নব্বই হাজার টাকার শসা বিক্রি হয়েছে। জমিতে যে ফলন রয়েছে, তা আরও এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন কৃষক ইউনুছ। তিনি মনে করেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকলে কৃষিতে তেমন একটা লোকসান হয় না। এসব জাতের বীজ সারা বছরই চাষ করা যায় এবং রোগবালাই কম হওয়ায় স্থানীয় কৃষকরা চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। তিনি তাঁর সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, "জমিতে শুধু বীজ আর চারা রোপণের মাধ্যমেই চাষাবাদে সফলতা পাওয়া যায় না। তার জন্য প্রয়োজন ধৈর্য, মেধা আর শ্রম। সঠিক সময়ে পরিচর্যা করতে হয় এবং সব সময় কৃষি অফিসের লোকজনের কাছ থেকে পরামর্শ নিতে হয়। এসব বিষয়গুলো মাথায় রেখে চাষাবাদ করলে কৃষকরা কখনো লোকসানে পড়বে না, যদি না কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়।"

স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক মিয়া বলেন, "ইউনুছ মিয়া 'গ্রীন বয়' জাতের শসা চাষ করে এলাকাতে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। প্রচুর ফলন এসেছে। এই শসা চাষ করে ইউনুছ মিয়া অনেক টাকা লাভ করতে পারবেন।"

কৃষি শ্রমিক আয়ুব মিয়া জানান, "আমি তার জমিতে দুই মাস যাবৎ ফসলের পরিচর্যা করে আসছি। দেড় মাসের মাথায় ফলন কর্তন শুরু করেছি। প্রতিদিন বিশ থেকে পঁচিশ মণ শসা কাটছি। বাজারে এর খুবই চাহিদা। দাম পাওয়া যাচ্ছে ভালো। আশা করছি উনি সমস্ত খরচ বাদে এক লাখ থেকে দেড় লাখ টাকা উপার্জন করতে পারবেন।"

অটোচালক নবী হোসেন বলেন, "আমি প্রতিদিন এখান থেকে আমার অটোতে করে বাজারে শসা নিয়ে যাই। বাজারে নেওয়ার সাথে সাথেই বিক্রি হয়ে যায়। শুনেছি এটা নাকি 'গ্রীন বয়' জাতের শসা। এজন্যই বাজারে এর চাহিদা বেশি।"

উপজেলা কৃষি অফিসার আকলিমা বেগম "দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ" কে বলেন, "মালচিং পদ্ধতি মূলত আধুনিক প্রযুক্তির একটি পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি। মালচিংয়ের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি হয় বলে এ পদ্ধতির জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাঠ পর্যায়ের কৃষি অফিসারগণ কৃষকদের উচ্চ ফলনশীল জাতের ফসল চাষে আগ্রহী করে তুলছেন। কৃষিতে বিভিন্ন কোম্পানির ভালো ভালো জাত এসেছে। এগুলো হচ্ছে 'গ্রীন বয়', 'স্মার্ট বয়'। এসব জাত কৃষকরা বেশি বেশি আবাদ করছেন। এ জাতগুলো চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। এসব জাতের বীজ সারা বছরই চাষাবাদ করা যায়। এ জাতের বীজগুলো আবাদে রোগবালাই কম হয়। ফসলের আকৃতি ভালো হওয়ায় বাজারদরও বেশি পাওয়া যায়। কৃষকরা এখন উচ্চ ফলনশীল জাতের চাষাবাদে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।"

Link copied!