বিচারহীনতার ২৯৭ দিন: সাজিদ হত্যার বিচার চায় ইবি শিক্ষার্থীরা

ওয়াসিফ আল আবরার , ইবি সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১০ মে, ২০২৬, ০৪:০০ পিএম

 ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার ২৯৭ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা।

‎​‎রবিবার (১০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। এতে সাজিদের সহপাঠী ছাড়াও শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, তালাবায়ে আরাবিয়ার নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে সাজিদের বন্ধু উসামা বলেন, সাজিদের লাশ পুকুরে পেয়েছি, সামনে আপনার সন্তানের লাশ যে পাওয়া যাবে না, তার কোন নিশ্চয়তা নাই। ক্যাম্পাসকে নিরাপদ করতে চাইলে দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সুরাহা করেন। আমাদের দাবি ছিল সাজিদ আব্দুল্লাহর নামে হলের নামকরণ। সেই দাবিতে স্বাক্ষর করা হলেও কেন সাজিদের নামে সেই হলটা এখনো বরাদ্দ দেওয়া হলো না এবং সাজিদের ফ্যামিলিকে যে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ছিল, সেই ক্ষতিপূরণ কেন সাজিদের পরিবার কে দেওয়া হলো না তা জানতে চাই। যদি আপনাদের পক্ষে এটা বাস্তবায়ন করা না যায় তাহলে নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চেয়ে পদত্যাগ করেন।

ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফুয়াদ হাসান বলেন, বর্তমান প্রশাসনের নূন্যতম সদিচ্ছা নেই সাজিদ হত্যার বিচারটি করার। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি স্টেকহোল্ডার এখন অনিরাপদ। যখন দেখছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সাজিদ হত্যা করার পরেও আমরা বেঁচে থাকতে পারছি তখন খুনিরা সাহস সঞ্চার করেছে যার ফলাফল রুনা ম্যাম হত্যাকাণ্ড। আমাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে, হয়তো সাজিদ হত্যাকারীদের সাথে প্রশাসনের একটি লিয়াজোঁ বা যোগসাজশ থাকতে পারে। কারণ তারা বড় বড় ইভেন্টে কখনোই সাজিদের নাম নেয় না। সাজিদের নামে হল করার কথা থাকলেও করেনি। হয়তো ভেবেছে সাজিদকে তাহলে সবাই স্মরণ করবে। প্রশাসনের প্ল্যান হচ্ছে ইবি থেকে সাজিদকে ভূলিয়ে দেওয়া।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত বলেন, প্রশাসন এই হত্যাকাণ্ডের পরে কী করেছে? অনেক বেশি ভূমিকা নিয়ে ছাত্রনেতাদেরকে শোকজ করেছে। আন্দোলনের সময়ে শিক্ষার্থীদের প্রক্টর অফিসে বসিয়ে রাখছে। প্রশাসন চেয়েছে এই আন্দোলনটা না হোক। প্রশাসন থেকে এখন পর্যন্ত লিগ্যাল পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কোনো চিঠি সিআইডির দপ্তরে যায়নি—এটা চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি। উনি যে এই ব্যবস্থা গুলো নিলেন না, তাহলে হত্যাকাণ্ডের সাথে কারা জড়িত—এ ব্যাপারে কী উনি জানেন? উনি কেন আন্দোলন থামাতে চাইলেন?

ক্ষোভ ঝেড়ে তিনি বলেন, আন্দোলন হলে ফোন দিয়ে বলা হয়—"আজকে আন্দোলন কেন করা লাগবে? এটা মীমাংসিত ইস্যু।" আমি ছাত্র উপদেষ্টাকে বলতে চাই, এটা কেমন মীমাংসিত ইস্যু? আপনি মীমাংসা করেছেন? সাজিদের বাবার সেই রক্তের হিসাব পেয়েছে? আপনি এটা বলেন মীমাংসিত ইস্যু! আবার সাজিদের নামে কেউ টুর্নামেন্ট ছাড়তে চাইলে বলে—"এই নামটা তোমাদের কেন চুজ করতে হবে?" কী আশ্চর্য ব্যাপার। সাজিদ আব্দুল্লাহর নাম শুনলেই ওনাদের গা জ্বলে, বলা হয় ক্যাম্পাস অস্থির হচ্ছে। ক্যাম্পাস অস্থির কীভাবে হয়? দুইটা খুন হয়ে গেছে তাতে অস্থির হয় নাই ক্যাম্পাস? সাজিদ আব্দুল্লাহ খুন হওয়ার পরে যখন আমরা আন্দোলন করি তখন ক্যাম্পাস অস্থির হয়?

শাখা ছাত্রশিবির সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি বলেন, সাজিদের লাশ পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং ছাত্র সংগঠনগুলো দাবি করে আসতেছে যে শহীদ সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচার করেন। কিন্তু তা না হওয়ায় ক্যাম্পাসে আরেকটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আর কতদিন সময় লাগবে আপনাদের এই হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে? আপনাদের ঢিলেমির কারণে যদি সামনে আবারো কোনো ঘটনা ঘটে তাহলে সম্পূর্ণ দায়ভার আপনাদেরকেই নিতে হবে। কিন্তু আপনাদের তো কোনো কর্ণকুহর আছে বলে আমাদের কাছে মনে হয় না। আপনারা যদি না পারেন, তাহলে যারা পারে তাদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করুন। যদি দায়িত্ব না নিতে পারেন, তাহলে দায়িত্ব ছেড়ে দিন। দায়িত্বে বসে থেকে শিক্ষার্থীদেরকে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগানোর কোনো মানে আছে বলে আমাদের কাছে মনে হয় না।

 

Advertisement

Link copied!