বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান ও মুক্তচিন্তার জায়গা, সংঘাতের নয়: পাবিপ্রবি উপাচার্য

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো জ্ঞান চর্চা ও মুক্তচিন্তার জায়গা, সংঘাতের নয় এমনটাই মন্তব্য করেছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম। রবিবার (১৭ মে) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এই কথা বলেন।

‎‎সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় নবনিযুক্ত উপাচার্য বলেন, আমরা চাই শিক্ষার্থীরা শুধু পাঠ্যবইভিত্তিক জ্ঞানে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব দক্ষতাও অর্জন করুক। এজন্য বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইন্টার্নশিপ, যৌথ গবেষণা, ক্যারিয়ার নেটওয়ার্কিং এবং স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। যাতে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজেদের জায়গা তৈরি করতে পারে।”

‎‎বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমার প্রধান ভিশন হলো পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি মানবিক, আধুনিক ও গবেষণানির্ভর বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা। আমি চাই এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম লিডিং রিসার্চ ও ইনোভেশন হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক। এখান থেকে বের হওয়া শিক্ষার্থীরা যেন বিশ্বমানের দক্ষতা ও নেতৃত্বের উদাহরণ তৈরি করতে পারে।”

‎‎ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে উপাচার্য বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় হবে জ্ঞান, সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার জায়গা,সংঘাতের নয়। শিক্ষার পরিবেশ যেন কোনোভাবেই দলীয় প্রভাব বা বিভাজনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটি নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও ইতিবাচক ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে আমরা কাজ করবো।”

‎‎তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক, যা পরিচিত হবে গুণগত শিক্ষা, গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব স্বকীয়তা তৈরি হবে বাস্তবমুখী জ্ঞানচর্চা ও শিক্ষার মানের মাধ্যমে।”

‎‎গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, “গণমাধ্যম বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়না। সাংবাদিকরা দায়িত্বশীলতা, সত্যনিষ্ঠা ও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করবেন বলে আশা করি। সমালোচনা অবশ্যই থাকবে, তবে তা যেন গঠনমূলক হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্জন, সম্ভাবনা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেশবাসীর সামনে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে হবে।”

‎এসময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান, প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান এবং ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রাশেদুল হক।

Advertisement

Link copied!