আশ্রয় দেয়ার কথা বলে নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পথে দেড়মাসের এক শিশুকে তার মায়ের কোল থেকে কেড়ে নিয়ে ঝোপের মধ্যে ফেলে দিয়ে ওই শিশুর মাকে ধর্ষনের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
নেত্রকোনা পুলিশ সুপারের নির্দেশে কেন্দুয়া ও মদন থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে (১৮ মে) সোমবার ভোররাতে মদন উপজেলার চন্দ্রতলা গ্রাম এলাকা থেকে ধর্ষণ চেষ্টাকারী মুদি দোকানদার আব্দুর রউফ ভূঞা (৫৫) রউফকে গ্রেফতার করে।
সোমবার বিকেলে মদন থানা পুলিশের হাতে তোলে দেয় এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ নারী বাদী হয়ে মদন থানায় ধর্ষনের চেষ্টার ঘটনায় ১৮ মে সোমবার একটি মামলা দায়ের করেন। মঙ্গলবার সকালে মদন থানা পুলিশ গ্রেফতারকৃত আব্দুর রউফকে নেত্রকোণা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠায়।
আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আব্দুর রউফের জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ধর্ষন চেষ্টার ঘটনাটি ঘটে (১৭ মে) রোববার সন্ধার পর কেন্দুয়া উপজেলা সীমান্তবর্তী কৈজানী ফেরিঘাট সংলগ্ন তাম্বুলিপাড়া এলাকায়, তাম্বুলিপাড়া মদন উপজেলার শেষ সীমান্তে অবস্থিত। এ ঘটনায় এলাকার সকল মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জানা যায়, ওই গৃহবধুর বাবার বাড়ী সিরাজগঞ্জ জেলায়। গত কয়েক বছর আগে প্রেম পরিনয়ে বিয়ে হয় নেত্রকোনার মদন উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের নায়েকপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ায়। বিয়ের পর গত দেড় মাস আগে এক সন্তান জন্ম নেয়। কিন্তু স্বামী-স্ত্রীতে ঝগড়া বিবাদের কারনে চার দিন আগে ওই নারীকে তালাক দেয় তার স্বামী। তবে দেড়মাসের শিশুকে কোলে নিয়ে স্বামীর সংসারে থাকার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে বাবার বাড়ি যেতে রওয়ানা করেন তিনি।
তালাকপ্রাপ্ত ওই নারী নিরুপায় হয়ে রোববার বিকেলে তার বাবার বাড়ি সিরাজগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেন। সন্ধার সাথে সাথে তিনি কৈজানী ফেরিঘাট এলাকার তাম্বুলিপাড়ায় আসেন। ফেরীঘাট এলাকার মুদি দোকানদার আব্দুর রউফের দোকানে বসে কান্নাজড়িত কন্ঠে তার ঘটনাটি বলেন। পরে কেন্দুয়া উপজেলা সদরে যেতে গাড়ির অপেক্ষায় বসে থাকেন।
ওই নারী জানান, এ সময় দোকানী আব্দুর রউফ সন্ধাবেলায় তার শিশুকে নিয়ে তার বাড়িতে আশ্রয় নিতে বলেন। এ কথায় রাজি হলে আব্দুর রউফ তার দোকানঘর বন্ধ করে ওই নারীকে নিয়ে সন্ধার পর চন্দ্রতলা গ্রামের দিকে রওয়ানা দেন। কিছুক্ষণ যাওয়ার পর আব্দুর রউফ ওই নারীর কোল থেকে দেড় মাসের শিশুকে কেড়ে নিয়ে একটি ধঞ্চাক্ষেতের ঝোপের মধ্যে ফেলে দিয়ে শিশুর মাকে ধর্ষনের চেষ্টা চালিয়ে দস্তাদস্তি শুরু করে। নারীর আর্তচিৎকারে আশেপাশের লোকজন দৌড়ে এসে তাকে ও তার অবুঝ শিশুকে ধঞ্চা ক্ষেত থেকে উদ্ধার করে। এ সময় আব্দুর রউফ পালিয়ে যায়। নারীর মুখ থেকে দোকানদারের পরিচয় দেওয়ায় লোকজন আব্দুর রউফকে চিনতে পারে। ঘটনাটি জানাজানি হলে কিছুক্ষনের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে। বিষয়টি নেত্রকোণার পুলিশ সুপারের নজরে আসে।
পুলিশ সুপার কেন্দুয়া ও মদন থানার পুলিশকে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে ধর্ষন চেষ্টাকারীকে অনতিবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।
কেন্দুয়া থানার ওসি মোঃ মেহেদী মাকসুদ জানান, আব্দুর রউফকে চন্দ্রতলা গ্রাম এলাকা থেকে সোমবার ভোর রাতে গ্রেফতার করা হয়। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসা করার পর মদন থানা পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়।
মদন থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) অসিম কুমার দাসের সাথে যোগাযোগ করা হলে মঙ্গলবার দুপুরে তিনি বলেন, এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ নারী বাদী হয়ে মদন থানায় ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহার ভুক্ত আসামি গ্রেফতারকৃত আব্দুর রউফকে মঙ্গলবার সকালে নেত্রকোণা আদালতে পাঠালে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক তার জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :