পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খননে ধীরগতি ও অনিয়ম: ময়মনসিংহে বিক্ষোভ

ধীরগতি ও অপরিকল্পিতভাবে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খননের প্রতিবাদে ময়মনসিংহে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ময়মনসিংহের সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘ। বুধবার (২০ মে ) বেলা ১১ টায় নগরীর জিরো পয়েন্টে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, পুরাতন ব্রক্ষপুত্র নদের নাব্যতা উন্নয়ন ও পুনরুদ্ধার নামে ২০১৯ সালে বিআইডব্লিউটিএ এর অধীনে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা প্রাথমিক ব্যয় ধরে খনন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ব্রহ্মপুত্রের উৎসমূখ হতে কাপাসিয়ার টোক পর্যন্ত ২২৭ কিলোমিটার খনন করার কথা। কিন্তু দীর্ঘ ০৭  বৎসর অতিক্রান্ত হলেও খনন কার্য আশানুরূপ দৃশ্যমান হয়নি। এ অবস্থায় প্রকল্পটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানান প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। অপরিকল্পিত খননকার্যের ফলে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। 

পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদ খননের উদ্দেশ্যে হচ্ছে, সারা বছর যাতে এ নদে নাব্যতা বজায় থাকে। নদে যাতে সারা বছর যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল করতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি ও মৎস্য সম্পদ উন্নয়নে ব্রহ্মপুত্র নদ যেন ভূমিকা রাখতে পারে। সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য  কার্যকরভাবে নদী খনন করা কি হচ্ছে?

বক্তারা আরো বলেন,  ব্রহ্মপুত্র শুধু একটি নদী নয়, এটি এ অঞ্চলের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। নদীকে বাঁচাতে পরিকল্পিতভাবে খননকার্য করে  এর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে।  খননের নামে ব্রহ্মপুত্র নদকে মেরে ফেলা হচ্ছে। খনন করে তোলা বালু নদীর পাড়ে ফেলে রাখার কারণে সেসব এলাকা অবৈধ দখলদারদের কবলে চলে যাচ্ছে। যে কারণে ব্রহ্মপুত্র নদ এখন মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। নদী রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের পরিবেশ, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়বে।

বক্তারা বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধের আহ্বান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, এই নদে দীর্ঘদিন ধরে শত শত ট্রলারের অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে প্রচণ্ড ভাঙনে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে। ফসলি জমি, বসতভিটা হারাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ। বারবার স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ধরনা দিয়েও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করা যাচ্ছে না। শত শত কোটি টাকার এই অবৈধ বালু বাণিজ্যের ভাগ-বাঁটোয়ারা যায় নেতা ও প্রশাসনের উচ্চ মহল পর্যন্ত।

বক্তারা বলেন, অপরিকল্পিত খননের পাশাপাশি এই নদে দীর্ঘদিন যাবত অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে  ভাঙনে নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে। ফসলি জমি, বসতভিটা হারাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ। বারবার স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ধরনা দিয়েও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করা যাচ্ছে না। শত শত কোটি টাকার এই অবৈধ বালু বাণিজ্যের ভাগ-বাঁটোয়ারা যায় নেতা ও প্রশাসনের উচ্চ মহল পর্যন্ত।

সমাবেশে বক্তারা  খনন প্রকল্পের অগ্রগতি ও বাস্তব চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরারও দাবি জানান।

সংগঠনের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার আহমেদ আশিকের পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন  আবু বক্কর সিদ্দিক রুমেল, ইঞ্জিনিয়ার এম এ জিন্নাহ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহজাহান, নাজমুল হাসান (রাজু খান), আবির হোসেন, নয়ন চক্রবর্তী, সাদ্দাম হোসেন রিমন, মোহাম্মদ সোহেল মিয়া, মোহাম্মদ দূর্জয়, আব্দুল্লাহ আল মামুন শুভ, সুশান্ত শীল, পাবেল আহমেদ, সজীব আকন্দ প্রমুখ।

 

Link copied!