গুরুতর অসুস্থ রাজপথের লড়াইয়ের ছাত্রদল নেতা পলাশ

মো. মাহাবুব আলম , ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি পঞ্চগড়

প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম

দলের আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে পুলিশের রাবার বুলেটের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও সেই ক্ষত আজও শুকায়নি। বরং বছরের পর বছর পেরিয়ে পুরনো সেই আঘাত থেকেই নতুন করে সংক্রমণ ছড়িয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন পঞ্চগড় সদর উপজেলা ছাত্রদলের  সাবেক সদস্য সচিব এখলাছুর রহমান পলাশ। গত ১৮ দিন ধরে তিনি পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জানা যায়, ২০২২ সালের ২৪ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পঞ্চগড় জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে একটি গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি বের হলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে লাঠিচার্জ, গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

ওই ঘটনায় বিএনপি নেতা আব্দুর রশিদ আরেফিন নিহত হন। গুরুতর আহত হন পঞ্চগড় জেলা যুবদলের বিপ্লবী সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান বাবু। এছাড়াও বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের অসংখ্য নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে ছিলেন এখলাছুর রহমান পলাশও।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, মিছিল চলাকালে প্রথমে পুলিশের লাঠিচার্জের শিকার হন পলাশ। পরে সহকর্মীদের রক্ষা করতে সামনে এগিয়ে গেলে তার শরীর ও পায়ে একাধিক রাবার বুলেট বিদ্ধ হয়। গুরুতর আহত অবস্থাতেও তিনি নির্ভয়ে সামনে দাঁড়িয়ে সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছিলেন, যখন অনেকেই আতঙ্কে মুখ খুলতে সাহস পাননি।

দীর্ঘদিন চিকিৎসার পর ক্ষতগুলো আপাতদৃষ্টিতে সেরে গেলেও গত বছর তার পায়ের পুরনো ক্ষতস্থানে হঠাৎ ফোস্কা ও চুলকানি দেখা দেয়। পরে সেখান থেকে পুঁজ বের হতে শুরু করলে চিকিৎসা নিয়ে সাময়িকভাবে সুস্থ হন তিনি। সম্প্রতি পুরনো ক্ষতস্থানটি কালো বর্ণ ধারণ করলে পুনরায় মারাত্মক সংক্রমণ দেখা দেয় এবং তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

অবস্থার অবনতি হলে তিনি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর সদস্য ও পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ এস. এম. মাহবুব উল আলমের শরণাপন্ন হন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বর্তমানে ডাঃ এস. এম. মাহবুব উল আলম ও ডা. আমির হোসেনের তত্ত্বাবধানে তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পুরনো আঘাতের কারণে রক্তনালিতে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে চিকিৎসার পর বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

এদিকে, ওই ঘটনার পর পুলিশের দায়ের করা পৃথক পাঁচটি মামলায় আহত অবস্থাতেই পলাশসহ বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের বহু নেতাকর্মী দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন।

হাসপাতালের বেডে শুয়ে আবেগঘন কণ্ঠে এখলাছুর রহমান পলাশ বলেন, দলের জন্য রাজপথে লড়াই করতে গিয়ে এই আঘাত পেয়েছিলাম। এখন পুরনো সেই ক্ষত আমাকে ভোগাচ্ছে। আমি দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ সকল স্তরের নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া চাই, যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবার রাজপথে ফিরতে পারি।

 

Link copied!