কালিগঙ্গা নদীভাঙন: ধীরগতিতে কাজ, শঙ্কায় স্থানীয়রা

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম , স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ০৩ জুন, ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার খলসি ইউনিয়নের বৃষ্ণুপুর কালিগঙ্গা খা পাড়া এলাকায় নদীভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কাজ ধীরগতিতে চলায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঢিলেঢালা কাজ এবং নদী থেকে অবৈধ ড্রেজারে বালু উত্তোলনের মহোৎসবের কারণে কালিগঙ্গা নদীর তীর এখন ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সরকারি উদ্যোগের এমন নাজুক পরিস্থিতিতে নিজেদের বসতভিটা রক্ষায় শেষ সম্বল দিয়ে ব্যক্তিগত তহবিলে বালুর বস্তা ও বাঁশ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়রা জানায়, নদীভাঙন রোধে ওই এলাকায় যে নতুন জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে, তা অত্যন্ত অপর্যাপ্ত ও নিম্নমানের। পুরাতন জিও ব্যাগের ওপর নাম্বারবিহীন নতুন ব্যাগ ফেলে এক প্রকার দায়সারা কাজ করা হচ্ছে। এমনকি নদীপাড়ে ফেলার আগেই অনেক জিও ব্যাগ ছিঁড়ে যেতে শুরু করেছে। বর্ষা মৌসুম কড়া নাড়তে থাকায় যেকোনো মুহূর্তে বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন পাড়ের মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নীরবতার সুযোগ নিয়ে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে কালিগঙ্গা নদী থেকে দিন-রাত অবৈধ ড্রেজার চালিয়ে বালু উত্তোলন করছে। ফলে নদীর তলদেশ গভীর হয়ে পাড়গুলো ভেতর থেকে ফাঁপা ও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে নদীতীর সংলগ্ন বেশ কিছু বসতবাড়ি ও ফসলি জমিতে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। হুমকিতে পড়েছে গ্রামীণ সড়কসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোটি টাকার জিও ব্যাগ প্রকল্পও। মাঝে মধ্যে প্রশাসনের দু-একটি অভিযানের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে বালু উত্তোলন বন্ধে কোনো কার্যকর স্থায়ী সমাধান মেলেনি।

"দিন-রাত ড্রেজার দিয়ে নদীর তলা কেটে নেওয়া হচ্ছে। নদীর পাড় ফাঁপা হয়ে গেছে। যেকোনো সময় বড় ভাঙন শুরু হলে আমাদের ঘরবাড়ি, জমি সব নদীগর্ভে চলে যাবে। সরকারি কাজও হচ্ছে কচ্ছপ গতিতে। তাই বাধ্য হয়ে আমরা নিজেরাই চাঁদা তুলে বালুর বস্তা আর বাঁশ দিয়ে পাড় টেকানোর চেষ্টা করছি," বলেন এক স্থানীয় বাসিন্দা।

এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার ইউএন নাহিয়ান নুরেনকে মুঠোফোনে ফোন করলে তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, "আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত ও মানসম্মত উপায়ে জিও ব্যাগ ফেলার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেব। আর অবৈধ ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের বিষয়টি দেখভাল করার দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হচ্ছে।"

কালিগঙ্গা নদীর ভয়াল গ্রাস থেকে বৃষ্ণুপুর কালিগঙ্গা খা পাড়া এলাকার কয়েকশ' পরিবারকে বাস্তুচ্যুত হওয়া থেকে রক্ষা করতে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি ও যৌথ হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তাদের দাবি, অবিলম্বে ড্রেজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হোক।

Advertisement

Link copied!