সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় প্রচণ্ড তাপদাহে জনজীবন স্থবির

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় কয়েকদিন ধরে চলমান প্রচণ্ড তাপদাহে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। তীব্র রোদ ও অসহনীয় গরমে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এলাকায় দিনের তাপমাত্রা ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।

বুধবার (৩ জুন) সকাল থেকেই প্রখর রোদ ও গরম বাতাসে রাস্তাঘাট ছিল অনেকটাই ফাঁকা। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষকে ঘরের বাইরে বের হতে দেখা যায়নি। তীব্র গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।

অনেকেই হিটস্ট্রোক, মাথাব্যথা, অতিরিক্ত ঘাম এবং পানিশূন্যতাজনিত নানা সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, মাঠে কাজ করতে গিয়ে তীব্র গরমের কারণে বেশিক্ষণ অবস্থান করা সম্ভব হচ্ছে না। একইভাবে রিকশা-ভ্যানচালক, নির্মাণশ্রমিক ও দিনমজুররাও কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে তাদের আয়-রোজগারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দিনের পাশাপাশি রাতেও গরমের তীব্রতা কমছে না। বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কোথাও কোথাও লোডশেডিং দেখা দিলে জনদুর্ভোগ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা প্রচণ্ড গরমে অপ্রয়োজনীয় বাইরে চলাচল এড়িয়ে চলা, পর্যাপ্ত পানি পান করা, হালকা ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

তাড়াশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জাহিদুল ইসলাম জানান, বুধবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি বলেন, আগামীকাল থেকে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে এবং বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে চলমান তাপপ্রবাহ থেকে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন।

 

Advertisement

Link copied!