মেয়ে হত্যার রায় শুনতে আদালতে রামিসার বাবা

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৭ জুন, ২০২৬, ১০:৫৮ এএম

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হবে আজ রোববার। বেলা ১১টার পর ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেহীন এ রায় ঘোষণা করবেন।

রায় শুনতে আদালতে এসেছেন রামিসার বাবা ও মামলার বাদী আবদুল হান্নান মোল্লা।

শুধু পরিবার নয় দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম মাত্র ১৭ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ায় রায়ের দিকে তাকিয়ে রয়েছে পুরো দেশবাসী।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসায় আট বছরের রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ঘটনাটি সামনে আসার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন মহল থেকে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি ওঠে। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার আশ্বাস দেওয়া হয়।

স্বামী সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে। একই সময়ে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও আটক করা হয়।

পরদিন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানাকে প্রধান আসামি এবং স্বপ্না আক্তারসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

তদন্তের সময় ডিএনএ ও ফরেনসিক আলামত, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। তদন্ত শেষে গত ২৪ মে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

অভিযোগপত্রে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অপরাধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। পরে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠান।

গত ১ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষের ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। সাক্ষীদের মধ্যে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা-মা, বড় বোন, প্রতিবেশী, তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ছিলেন।

৩ জুন ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সোহেল রানা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। স্বপ্না আক্তারও নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেন।

এরপর ৪ জুন যুক্তিতর্ক শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে জানায়, সাক্ষ্য-প্রমাণ, ফরেনসিক আলামত ও মামলার অন্যান্য উপাদানের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ দুই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করে।

Link copied!