রামিসা হত্যা মামলার বিচার মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়াকে দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, নিম্ন আদালতের রায়ে সরকার সন্তুষ্ট এবং উচ্চ আদালতেও এই রায় বহাল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রোববার (৭ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী জানান, ঘটনার পরপরই দ্রুত তদন্ত, অভিযোগপত্র দাখিল এবং বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার মাধ্যমে সরকারের প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রতিফলন ঘটেছে। তিনি বলেন, ১৯ মে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষ করে ২৪ মে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। এরপর আদালতের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় দ্রুত বিচারকাজ পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই এক মাসের মধ্যে মামলার বিচার শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সেই লক্ষ্য অর্জনে শিশু ট্রাইব্যুনালকে নির্ধারিত আদালত-ছুটির বাইরে রেখে বিচারিক কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে মামলার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, “রামিসাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে। দ্রুত বিচারের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে অন্তত ন্যায়বিচারের একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়া গেছে।”
মামলার পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে তিনি জানান, নিয়ম অনুযায়ী শিগগিরই মামলার নথি হাইকোর্ট বিভাগে পাঠানো হবে। এরপর পেপারবুক প্রস্তুত ও শুনানির মাধ্যমে মামলাটি নিষ্পত্তির দিকে এগোবে। এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আইনমন্ত্রী অতীতের কয়েকটি আলোচিত মামলার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, মেজর সিনহা হত্যা ও আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার বিচারও তুলনামূলক দ্রুত সময়ে সম্পন্ন হয়েছিল। রামিসা হত্যা মামলাকেও একই গুরুত্ব দিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিচালনা করা হয়েছে।
সমাজে অপরাধের পুনরাবৃত্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শাস্তি কার্যকর হতে দীর্ঘ সময় লাগা অপরাধ প্রবণতার একটি কারণ হতে পারে, তবে সেটিই একমাত্র কারণ নয়। তিনি দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার উদ্দেশ্যে মামলার সঙ্গে সম্পর্কহীন ব্যক্তিদের জড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন। তবে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্টরা মূল ঘটনার ওপরই গুরুত্ব দিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :