দূতাবাসের সহায়তায় মৃত্যুর দুয়ার থেকে স্বজনের কাছে প্রবাসী রউফ

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৯ জুন, ২০২৬, ০১:১৭ পিএম

একটি সড়ক দুর্ঘটনা কীভাবে একটি পরিবারের স্বপ্নকে মুহূর্তেই দুঃস্বপ্নে পরিণত করতে পারে, তারই মর্মস্পর্শী উদাহরণ বগুড়ার আব্দুর রউফ। মালয়েশিয়ায় জীবিকার সন্ধানে যাওয়া এই প্রবাসীর জীবন আজ থমকে গেছে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায়।

দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় ২০২৩ সালে প্রায় ৫ লাখ টাকা ঋণ করে কলিং ভিসায় মালয়েশিয়া পাড়ি জমান রউফ। নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে দিন-রাত পরিশ্রম করে পরিবারের অভাব কিছুটা দূর করার চেষ্টা করছিলেন তিনি। কিন্তু চলতি বছরের মার্চ মাসে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে একটি সড়ক দুর্ঘটনা তার জীবনের গতিপথ বদলে দেয়।

দুর্ঘটনায় মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে মালাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি হন রউফ। চিকিৎসকরা তার জীবন বাঁচাতে একাধিক অস্ত্রোপচার করেন এবং মাথার খুলির একটি অংশ অপসারণ করতে বাধ্য হন। দীর্ঘ কয়েক মাস কোমায় থাকার পর তিনি চলাফেরা ও স্বাভাবিকভাবে কথা বলার সক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেন।

এদিকে একমাত্র সন্তানের জীবন বাঁচাতে পরিবার সর্বস্ব উজাড় করে দেয়। চিকিৎসার খরচ মেটাতে জায়গা-জমি বিক্রি করে প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয় করেন বৃদ্ধ বাবা-মা। কিন্তু ব্যয়বহুল চিকিৎসার ধাক্কায় একসময় অর্থের অভাবে চিকিৎসা কার্যত বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়।

এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি সোশ্যাল ওয়ার্কার মোহাম্মদ হৃদয় মিয়া বিষয়টি বাংলাদেশ হাইকমিশনের নজরে আনেন। খবর পেয়ে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরীর নির্দেশনায় দূতাবাসের লেবার মিনিস্টার মো. সিদ্দিকুর রহমান এবং প্রেস সচিব তারিকুল ইসলাম গত শনিবার মালাকায় গিয়ে রউফের খোঁজখবর নেন এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

পরিবারের পক্ষে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা অসম্ভব হয়ে পড়লে দূতাবাসে সহায়তার আবেদন করা হয়। নিয়ম-কানুন ও সীমিত বাজেটের বাধা থাকলেও মানবিক বিবেচনায় অতিরিক্ত সহায়তার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ হাইকমিশন।

অবশেষে নানা প্রচেষ্টার পর সোমবার (৮ জুন) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশে ফিরিয়ে আনা হয় আহত রউফকে। তাকে দেশে আনার পুরো প্রক্রিয়ায় দ্রুত সহযোগিতা করে রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থাটি।

একজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার এমন দুর্দিনে পাশে দাঁড়িয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ও। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রায় ৪ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশে ফিরে তার চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।

দীর্ঘ লড়াই শেষে স্বজনদের কাছে ফিরেছেন আব্দুর রউফ। তবে তার সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার লড়াই এখনও শেষ হয়নি। এখন সেই লড়াইয়ে পাশে দাঁড়ানোর অপেক্ষায় রয়েছে পরিবারটি।

Link copied!