সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় গঠনের রায় স্থগিত

অনলাইন ডেস্ক , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ০৯ জুন, ২০২৬, ০২:০৯ পিএম

সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুন দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় কার্যকর হবে না।

মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে সকালে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানি শুরু হয়। গত ২১ মে সরকার এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করে।

গত ৭ এপ্রিল প্রকাশিত ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের জন্য তিন মাসের মধ্যে একটি পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর এ রায় ঘোষণা করেছিলেন।

রায়ে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের সেই বিধান বাতিল করা হয়, যেখানে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ, পদোন্নতি, কর্মস্থল নির্ধারণ ও ছুটি মঞ্জুরিসহ শৃঙ্খলাজনিত বিষয়গুলো রাষ্ট্রপতির অধীনে ন্যস্ত রয়েছে। হাইকোর্টের রায়ে এসব ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের অধীনে ন্যস্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ২০১৭ সালে প্রণীত জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালাও বাতিল ঘোষণা করা হয়।

২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের সাতজন আইনজীবী সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ও ২০১৭ সালের জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন। একই সঙ্গে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চাওয়া হয়। পরে ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট এ বিষয়ে রুল জারি করেন।

রিটকারীদের যুক্তি ছিল, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবিষয়ক ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির অধীনে থাকলেও বাস্তবে তা নির্বাহী বিভাগের প্রভাবের আওতায় পরিচালিত হয়, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করে।

১৯৭২ সালের সংবিধানে অধস্তন আদালতের বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে ছিল। তবে ১৯৭৪ সালের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে এ ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা হয়।

পরবর্তীতে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে ‘সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে’ রাষ্ট্রপতি এ ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন— এ মর্মে বিধান যুক্ত করা হয়। পরে পঞ্চম সংশোধনী অসাংবিধানিক ঘোষিত হলেও ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমান ১১৬ অনুচ্ছেদের বিধান পুনঃস্থাপন করা হয়, যা এখনো কার্যকর রয়েছে।

এদিকে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি আগামী ১৬ জুন অনুষ্ঠিত হবে। এ মামলার চূড়ান্ত রায় বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক ক্ষমতার ভারসাম্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

Link copied!