বিল্লাল হোসেন মানিক, ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহ জেলায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানের নির্দেশনায় গত এক মাস ধরে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। জেলার বিভিন্ন থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) সমন্বিতভাবে সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ, সাইবার অপরাধী এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, জাতীয় শ্রমিক লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সারা দেশের মতো ময়মনসিংহ জেলাতেও চলমান সাঁড়াশি অভিযানে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেলার ১৪টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) এ অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাদের মধ্যে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শিবিরুল ইসলাম, ত্রিশাল থানার ওসি মনসুর আহমেদ, ডিবি দক্ষিণের ওসি মাহবুবুর হক এবং ডিবি উত্তরের ওসি সাজ্জাদ রোমনের কার্যক্রম বিশেষভাবে আলোচনায় রয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শিবিরুল ইসলাম বলেন, “পুলিশ সুপার স্যারের নির্দেশনায় আমরা দিনরাত অভিযান পরিচালনা করছি। নিয়মিত গ্রেফতার অভিযান এবং নগরীর আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছি। আগের তুলনায় অপরাধ দমনে প্রায় ৯০ শতাংশ সফলতা অর্জিত হয়েছে।”
ত্রিশাল থানার ওসি মনসুর আহমেদ বলেন, “অপরাধী এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। ইতোমধ্যে প্রায় ১৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধীদের পক্ষে কোনো তদবির গ্রহণ করা হবে না। তবে সাধারণ মানুষ থানায় সেবা নিতে এলে শতভাগ সেবা নিশ্চিত করা হবে।”
ডিবি দক্ষিণের ওসি মাহবুবুর হক বলেন, “পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান স্যারের নির্দেশনায় মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিন মাদক ও মাদক কারবারিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। মাদক ব্যবসায়ীদের জন্য ময়মনসিংহে কোনো স্থান নেই। মাদক সমাজের অন্যতম বড় শত্রু, তাই এর বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান কঠোর।”
ডিবি উত্তরের ওসি সাজ্জাদ রোমন বলেন, “আমার চাকরি জীবনে একজন দক্ষ ও মেধাবী পুলিশ সুপারের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। তিনি সবসময় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকেন। তাঁর নেতৃত্বে ডিবি পুলিশ মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী এবং নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।”
চরপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান বলেন, “নতুন পুলিশ সুপার দায়িত্ব নেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারের খবর দেখছি। এটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে অপরাধ নির্মূলে অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন।”
প্রাইভেট হাসপাতাল মালিকদের নেতা মনসুর আলম চন্দন বলেন, “ময়মনসিংহে মাদকের বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক। আমরা চাই মাদক পুরোপুরি নির্মূল হোক। মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে উঠলে আমাদের সন্তানরা সুন্দর ভবিষ্যৎ পাবে।
বর্তমান পুলিশ সুপার কামরুল হাসান একজন দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তা। তাঁর নেতৃত্বে মাদকবিরোধী অভিযান আরও সফল হবে বলে আমরা আশা করি। মাদক নির্মূলে প্রাইভেট হাসপাতাল মালিকরাও পুলিশকে সার্বিক সহযোগিতা করবে।”ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল আলম জানান, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
পুলিশের দাবি, চলমান এ অভিযানের ফলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ প্রবণতা কমেছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে জেলা পুলিশ ভবিষ্যতেও কঠোর অবস্থানে থাকবে।
আপনার মতামত লিখুন :