নেত্রকোণায় অতিবৃষ্টি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা ও পুনর্বাসন তালিকায় ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং প্রকৃত কৃষকদের বাদ দেওয়ার অভিযোগে বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভুক্তভোগী ও বঞ্চিত কৃষকরা তালিকা পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের নাম বাদ দিয়ে ক্ষতি হয়নি এমন প্রভাবশালী ও স্বজনদের তালিকাভুক্ত করার অভিযোগে বারহাট্টার বাউসী, আসমা, সিংধা ও বারহাট্টা সদর ইউনিয়নের কৃষকরা পৃথকভাবে মানববন্ধন করেছেন। ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগও দাখিল করেছেন।
এদিকে জেলার আটপাড়ায় স্বরমুশিয়া ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকায় প্রকৃত কৃষকদের তালিকায় সজনপ্রীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে ৪ নং ওয়ার্ডের কান্দাপাড়া লক্ষিপুর গ্রামের প্রকৃত কৃষকগণ মঙ্গলবার দুপুরে গ্রামের সামনে রাস্তায় শতাধিক কৃষকগণ মিলে এ মানববন্ধনের আয়োজন করেছেন।
এসময় বক্তব্য রাখেন মোঃ মঞ্জু মিয়া, চান মিয়া, নুর আহমেদ, তৌহিদ মিয়া,জসিম উদ্দিন, রহমতুল্লাহ, আব্দুস সালাম, রহিছ মিয়া, শরিফ মিয়া, সবুজ মিয়া সহ অনেকেই। বক্তৃতায় কৃষকগণ বলেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় প্রকৃত কৃষকদের নাম বাদ দিয়ে, সজনপ্রীতি করে অ-ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নাম তালিকাভুক্ত করার ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। এর সাথে কৃষি অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কমিটির নেতৃবৃন্দ জড়িত রয়েছেন। স্বরমুশিয়া ইউনিয়নে প্রায় ৪.২৭টি কার্ডের মধ্যে প্রায় ৩০০শত কার্ড ১,২,৩, এই তিনটি ওয়ার্ডে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৬টি ওয়ার্ডে দেওয়া হয়েছে ১শত। এরমধ্যে ৪নং ওয়ার্ডের কান্দাপাড়া লক্ষিপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রয়েছে প্রায় ৩০ জন কিন্তু। তালিকায় রয়েছন ২জন। অ-কৃষক ও অ-ক্ষতিগ্রস্ত নেতা কর্মীদের অনেকের নাম রয়েছে তালিকায় । প্রকৃত কৃষকদের নাম শুধু বাদ পড়েছে। কৃষকগণের দাবি আমরা প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় গরীব কৃষক সরকারের এই সুবিধা থেকে যেন তারা বঞ্চিত না হয়।
অন্যদিকে, কলমাকান্দার পোগলা ইউনিয়নে অর্থের বিনিময়ে কার্ড বিতরণ এবং প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে স্বজনদের তালিকাভুক্ত করার অভিযোগের আড়ালে স্থানীয় একটি সমিতির অর্থ আত্মসাতকে আড়াল করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে স্থানীয় কৃষকরা তালিকা সঠিক হয়েছে বলে মানববন্ধনও করেছেন। অন্যদিকে পূর্বধলাে জারিয়া ও ঘাগড়া ইউনিয়নে সরকারি কৃষি প্রণোদনার তালিকা প্রণয়নে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিক্ষুব্ধ কৃষকরা বিক্ষোভ ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্থানীয় কয়েকজনের যোগসাজশে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় মনগড়া তালিকা প্রস্তুত করেছেন। আবার, তালিকাভুক্ত হওয়া না হওয়াকে কেন্দ্র করে মদনে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যেখানে অন্তত ৮ জন আহত হন বলেও জানা গেছে।
প্রসঙ্গত, এপ্রিল মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে নেত্রকোনায় ভারী বর্ষণে হাওরের পাকা বোরো ধান তলিয়ে যায়। টানা বৃষ্টির কারণে কাটা ধানও শুকাতে না পারায় পচে নষ্ট হয়ে যায়। ক্ষতি হয় গোখাদ্য খড়েরও। এতে কৃষকদের বিপুল পরিমাণ ক্ষতি হয়। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মাঠে এসে প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করার নির্দেশনা দেয়।
কৃষি বিভাগের মতে, তালিকাভুক্ত কৃষকদের সরকার টানা তিন মাস ৩ হাজার টাকা করে প্রতি মাসে এবং ১৫ কেজি চাল প্রতিমাসে সহায়তা দিচ্ছে। শুরু থেকেই অভিযোগ উঠে সহায়তার তালিকায় অকৃষক ও ক্ষতি হয়নি এমন কৃষকের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাদ পড়েছেন প্রকৃত কৃষকরা। তালিকায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মেম্বার, সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা স্বজনপ্রীতির পাশাপাশি তালিকাভুক্ত করতে কৃষকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ নিয়েছেন এমন অভিযোগও আছে। এই অভিযোগে উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে ক্ষোভে ফুঁসছেন সাধারণ মানুষ ও অসহায় কৃষকেরা। এবিষয়ে নেত্রকোণার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে মঙ্গলবার (১৬ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টা নাগাদ তিনি জানান, এব্যাপারে ইউএনওদের বলা হয়েছে, তারা যাচাই-বাছাই করে যথাযথ পদক্ষেপ নিবেন।
আপনার মতামত লিখুন :