ঢাকা জেলার সাতটি থানায় গত এক সপ্তাহে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে ৮০৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে নিষিদ্ধ সংগঠনের সাত সদস্য এবং মাদক-সংক্রান্ত মামলার ১৩৪ আসামি রয়েছেন। একই সময়ে বিপুল পরিমাণ মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র, চোরাই মালামাল ও বিভিন্ন যানবাহন উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন।
পুলিশ জানায়, ৮ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত সাভার মডেল থানা, আশুলিয়া থানা, ধামরাই থানা, কেরানীগঞ্জ মডেল থানা, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা, নবাবগঞ্জ থানা ও দোহার থানায় একযোগে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৮০৯ জনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে আইনগত প্রক্রিয়ায় সোপর্দ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে ঢাকা জেলা পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে চিহ্নিত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মাদকবিরোধী অভিযানে ৬২ কেজি গাঁজা এবং ৮ হাজার ২৯৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি একটি বিদেশি রিভলভার, এক রাউন্ড গুলি ও বেশ কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানে কয়েকটি আলোচিত অপরাধী চক্রের সদস্যদেরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, রাজেন্দ্রপুর এলাকায় সক্রিয় কুখ্যাত ডাকাত সনি ও তাঁর সহযোগীদের আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেনে চলাচলকারী সিএনজি, মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে।
একই অভিযানে ঝিলমিল এলাকায় সক্রিয় ‘ল্যাংড়া এরফান’ ডাকাত চক্রের প্রধান এরফানসহ চারজনকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ছাড়া কদমতলী এলাকায় সিএনজি ব্যবহার করে ছিনতাইকারী চক্রের মূল হোতা লিটনসহ চার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ বলছে, চক্রটি যাত্রীদের সিএনজিতে তুলে মারধর ও চোখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে নগদ অর্থ, মুঠোফোন এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অর্থ ছিনিয়ে নিত।
বসুন্ধরা রিভার ভিউ আবাসিক এলাকায় গ্রিল কেটে সংঘটিত চুরির ঘটনায় চক্রের মূল হোতা কালা ওয়াশিম ও তাঁর এক সহযোগীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি কদমতলীর আলোচিত বাবু হত্যা মামলার আসামি সিয়ামকে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আটক করা হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
অন্যদিকে শতাধিক মামলার আসামি হিসেবে পরিচিত ‘ব্রিফকেস হান্নান’কে তাঁর সহযোগীদেরসহ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পুলিশের দাবি, তিনি ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের টাকা উত্তোলনকারী গ্রাহকদের অনুসরণ করে সুযোগ বুঝে ডাকাতি ও ছিনতাই করতেন।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, “অপরাধ দমন, মাদক নির্মূল এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঢাকা জেলা পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রম ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পুলিশের কাজে বাধা কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ঢাকা জেলা পুলিশ পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিশেষ অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।
আপনার মতামত লিখুন :