দিঘীনালায় জলবায়ু সহিষ্ণুতা পরিকল্পনা বিষয়ক অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত

অজয় সেন ত্রিপুরা , খাগড়াছড়ি জেলা সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ১৮ জুন, ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম

পার্বত্য খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ কর্তৃক বাস্তবায়িতব্য ‘করলিয়া প্রকল্প’-এর জলবায়ু সহিষ্ণুতা পরিকল্পনা বিষয়ক এক উপজেলা পর্যায়ের অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন)  দিঘীনালা উপজেলা সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। ​দিঘীনালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তানজিল পারভেজের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য ও মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম উপস্থাপন করেন করলিয়া প্রকল্পের খাগড়াছড়ি জেলা কর্মকর্তা নবলেশ্বর দেওয়ান। 

প্রকল্পটির উপজেলা ফ্যাসিলিটেটর রাসিল ত্রিপুরার সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন দিঘীনালা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাজিব শেখ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো: শাহাদত হোসেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃতেন্দ্রীয় চাকমা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিরুপন চাকমা, উপজেলা বন কর্মকর্তা জাহেদ হোসাইন, বাবুছড়া ইউপি চেয়ারম্যান গগন বিকাশ চাকমা এবং কবাখালী ইউপি চেয়ারম্যান নলেজ চাকমা প্রমুখ।

সভায় বক্তারা করলিয়া প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, "এই প্রকল্পের কার্যক্রম সত্যি প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকার মানোন্নয়নে অনবদ্য অবদান রাখছে।" ​বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে প্রকল্পের ভূমিকা: প্রকল্পের আওতায় দিঘীনালা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিশুদ্ধ পানির সংকট দূরীকরণে নেওয়া উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করে বক্তারা জানান, মেরুং ইউনিয়ন বেলতলি পাড়ায় সোলার এবং মিলন কার্বারী পাড়ায় ইলেকট্রিক পাম্পের মাধ্যমে পানি সরবরাহ। ​বোয়ালখালী ইউনিয়ন পার্বতী পাড়া ও নিল পাড়ায় সোলারের মাধ্যমে পানি সরবরাহ। ​কবাখালী ইউনিয়ন জোরাব্রিজ পাড়া, কাঙ্গেরীমাছড়া পাড়া ও জাম্বিড়া পাড়ায় ইলেকট্রিক পাম্পের মাধ্যমে পানি সরবরাহ। ​বাবুছড়া ইউনিয়ন ধনপাতা ও পাকুজ্যাছড়ি পাড়ায় সোলারের মাধ্যমে পানি সরবরাহ। ​দিঘীনালা ইউনিয়ন মনিন্দ্র কার্বারী পাড়াসহ ৪টি পাড়ায় নলকূপ স্থাপনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ। ​এসব সফল বাস্তবায়নের ফলে দিঘীনালা উপজেলার দুর্গম এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ পানির সংকট অনেকাংশে দূর হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।

বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের পাশাপাশি এই প্রকল্পের আওতায় স্থানীয় নারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া নারীদের স্ব-স্ব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য জনপ্রতি ৪,৫০০ টাকা করে ব্যক্তিগত অনুদান দেওয়া হয়েছে, যা গ্রামীণ নারীদের আয় বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। ​সভায় জানানো হয়, আগামীতে করলিয়া প্রকল্পের আরও ২টি সাইটে নতুন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি যেসব এলাকায় এখনও উন্নয়ন গ্যাপ বা ঘাটতি রয়েছে, সেগুলোতে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন ও সরকারি বিভিন্ন লাইন ডিপার্টমেন্টের (সংশ্লিষ্ট দপ্তর) মাধ্যমে সমন্বিত সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন উপস্থিত কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা।

​সবশেষে করলিয়া প্রকল্পের কার্যক্রমের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব তানজিল পারভেজ।

 

Link copied!