ওসি পদায়নে ঘুষ-অনিয়ম, দুদকের অনুসন্ধানে সাবেক ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি

বিশেষ প্রতিনিধি , প্রতিদিনের কাগজ

প্রকাশিত: ২১ জুন, ২০২৬, ০৯:১৮ এএম

ময়মনসিংহ রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি-কে ঘিরে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মহলে তাঁর দায়িত্বকালীন কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা অভিযোগ উত্থাপিত হচ্ছে। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর কমিশনার এবং পরবর্তীতে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি 

হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, ময়মনসিংহ রেঞ্জে দায়িত্ব পালনকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে বিএনপি- জামাত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড়, মামলা ও হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া তাঁর সময়কালে সংঘটিত বিভিন্ন ক্রসফায়ার ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।

জানা যায়, নিবাস চন্দ্র মাঝি ২০১৬ সালের ৮ জুন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং প্রায় দুই বছর ওই পদে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ে রেঞ্জের ৩৬  থানায় ওসি পদায়ন ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে অনিয়ম, ঘুস বানিজ্য  এবং আর্থিক লেনদেন সংঘটিত হতো।

সাংবাদিক মো. খায়রুল আলম রফিক দাবি করেছেন, সাবেক ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝির বিরুদ্ধে দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর তাঁর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয় এবং তাঁকে গ্রেপ্তার হতে হয়। পরবর্তীতে আদালতে তিনি ওই মামলায় খালাস পান বলেও দাবি করেন।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাঙ্ক্ষিত থানায় ওসি হিসেবে পদায়ন পেতে অনেক কর্মকর্তাকে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হতো। কোনো কোনো থানায় অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিকবার ওসি পরিবর্তনের মাধ্যমে পুনরায় আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া বিএনপিপন্থী হিসেবে পরিচিত কিছু পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রশাসনিকভাবে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ময়মনসিংহ রেঞ্জে কর্মরত অবস্থায় তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তি বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের দেখভাল করতেন। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।

এদিকে, সাবেক ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝির বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা আখতারুল ইসলামের বরাত দিয়ে জানা গেছে, নিবাস চন্দ্র মাঝি, সাবেক পুলিশ সুপার ও ৪ জন ওসির অবৈধ সম্পদ ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার এবং রাজশাহীতে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তুলেছেন। তাঁদের অভিযোগ, এসব সম্পদের একটি অংশ ভারতে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। 

এছাড়া সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদ-এর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত নিবাস চন্দ্র মাঝির বিরুদ্ধে বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত হচ্ছে। অভিযোগকারীরা তাঁর সম্পদ ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সাবেক ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝির বক্তব্য জানার জন্য তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। খুদে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Advertisement

Link copied!