গাজীপুরের বহুল আলোচিত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম যখন দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে ও ধারাবাহিক সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে মামলাটি রায়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, ঠিক এমন সময় আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের উদ্দেশে বিভৎস ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণ ও হুমকি দিয়ে নতুন করে চাঞ্চল্যের জন্ম দিয়েছেন মামলার প্রধান আসামি কেটু মিজান। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে করে বলেন কেটু মিজান বিভৎস ইঙ্গিতে বলেন,"হামাইয়া দিমু বড় ভাই"।
রোববার (২১ জুন) গাজীপুর আদালত প্রাঙ্গণে তাকে হাজির শেষে প্রিজন ভ্যানে উঠার সময় উপস্থিত সাংবাদিকদের দিকে তাকিয়ে অশোভন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনমূলক ইঙ্গিত করেন তিনি। বিষয়টি সাংবাদিক মহলে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এর আগে হত্যা মামলায় ব্যবহৃত বিভিন্ন জব্দকৃত আলামত আদালতে উপস্থাপন করা হয় এবং আলামত জব্দের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণের ফলে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট প্রশান্ত দাস বলেন, “হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে এবং জব্দকৃত আলামতের তিনজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। মামলার মেরিট অত্যন্ত শক্তিশালী। আদালত দ্রুত সময় নির্ধারণ করছেন। আমরা আশাবাদী, অল্প সময়ের মধ্যেই দোষীদের বিরুদ্ধে বিচারিক রায় হবে।”
বাসন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুন অর রশিদ বলেন, “তুহিন হত্যা মামলার অগ্রগতি আশানুরূপ। বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে চলেছে। শিগগিরই মামলাটি রায় ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আমরা আশা করছি।” নিহত সাংবাদিক তুহিনের বড় ভাই ও মামলার বাদী সেলিম বলেন, “পরিবার হিসেবে আমরা ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছি। আদালতের রায়ের মাধ্যমে আসামিদের দ্রুত ফাঁসি কার্যকর হবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
তিনি আরও বলেন, “আদালত প্রাঙ্গণেও প্রধান আসামির এমন হুমকিমূলক আচরণ প্রমাণ করে, তারা এখনো অনুতপ্ত নয়। আমরা পরিবার ও সাংবাদিক সমাজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন।”
দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর সম্পাদক ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের চেয়ারম্যান খায়রুল আলম রফিক বলেন, “বাংলাদেশে বহু সাংবাদিক হত্যার বিচার হয়নি। কিন্তু তুহিন হত্যা মামলায় যেভাবে দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে যাচ্ছে, তা সাংবাদিক সমাজের জন্য আশার বার্তা। এই মামলার বিচার সম্পন্ন হলে তা সাংবাদিক হত্যা মামলার বিচারের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তবে আদালত প্রাঙ্গণে প্রধান আসামির সাংবাদিকদের প্রতি বিভৎস ইঙ্গিত ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের আচরণ বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”
উল্লেখ্য, গত বছরের ৭ আগস্ট গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তার মাঝখানে প্রকাশ্য দিবালোকে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় দেশব্যাপী তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। চার্জ গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই ধারাবাহিক সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়াকে সাংবাদিক হত্যা মামলার ইতিহাসে বিরল অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সাংবাদিক নেতারা।
তবে বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালে প্রধান আসামি কেটু মিজানের ধারাবাহিক উসকানিমূলক বক্তব্য ও সর্বশেষ আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রতি হুমকিসূচক আচরণ নতুন করে নিরাপত্তা ও বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সাংবাদিক সমাজের দাবি, দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের পাশাপাশি বিচার সংশ্লিষ্ট সবাই ও গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
আপনার মতামত লিখুন :