দেবপুর গ্রামে মাদক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি, শঙ্কায় এলাকাবাসী

আলম চৌধুরী , সিনিয়র রিপোর্টার

প্রকাশিত: ২৪ জুন, ২০২৬, ০১:০৬ পিএম

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার ৪নং উত্তর ঝলম ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের দেবপুর গ্রামে দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে মাদক, চুরি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় মাদকসেবী ও অপরাধী চক্রের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বিশেষ করে যেসব পরিবারের সদস্যরা প্রবাসে রয়েছেন, তাদের স্ত্রী-সন্তানরা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। গ্রামের অনেক বাড়িতে পুরুষ সদস্যের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা গভীর রাতে ঘোরাফেরা করে এবং সুযোগ পেলেই চুরির ঘটনা ঘটায়। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় প্রতিদিনই গ্রামের কোনো না কোনো এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটছে। ফলে রাত নামলেই আতঙ্কে থাকেন গ্রামের নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা।

এলাকাবাসী আরও জানান, বিবাহযোগ্য তরুণী মেয়েদের পরিবারও চরম উদ্বেগে রয়েছে। অপরাধীদের বেপরোয়া চলাফেরা এবং আইনশৃঙ্খলার অবনতির কারণে যেকোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। অনেক পরিবার রাত জেগে পাহারা দিতে বাধ্য হচ্ছে, তবুও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

গ্রামবাসীর মতে, মাদকের সহজলভ্যতা এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। তাই তারা দ্রুত মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, নিয়মিত পুলিশ টহল বৃদ্ধি এবং চোরচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ থানা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন দেবপুর গ্রামের সচেতন নাগরিকরা। পাশাপাশি লাকসাম-মনোহরগঞ্জ-কুমিল্লা-৯ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ (এমপি) মহোদয়ের সুদৃষ্টি ও কার্যকর পদক্ষেপও প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে আরও দাবি জানানো হয়েছে যে, গ্রামে পাড়া-মহল্লাভিত্তিক নিরাপত্তা কমিটি ও রাতের পাহারা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ জনগণের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুললে চুরি, মাদক, ছিনতাই, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন তারা।

দেবপুর গ্রামের নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর এবং প্রবীণ বাসিন্দাদের একটাই প্রত্যাশা—প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে আবারও যেন তাদের গ্রামে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্বস্তির পরিবেশ ফিরে আসে এবং সবাই আগের মতো নিশ্চিন্তে জীবনযাপন করতে পারেন।

Link copied!