ভারি বৃষ্টি আর জোয়ারে কুতুবদিয়ায় ধসে পড়ল কৈয়ারবিল-লেমশীখালী সেতু, বিচ্ছিন্ন ১০ গ্রামের যোগাযোগ

মনসুর আলম মুন্না , স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার

প্রকাশিত: ০৬ জুলাই, ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের কৈয়ারবিল-লেমশীখালী সংযোগ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির চাপে অবশেষে সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। এতে প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সেতুটি নির্মাণ করে। প্রায় দুই দশক ধরে ব্যবহৃত এই সেতুর বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে দেবে যাচ্ছিল। স্থানীয়রা বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালেও কার্যকর কোনো সংস্কার হয়নি। পরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশ ও কাঠের অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করে মানুষ চলাচল করছিলেন। তবে সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানির প্রবল চাপে সেতুর মাঝের অংশ সম্পূর্ণ ধসে পড়ায় এখন সেই অস্থায়ী ব্যবস্থাও আর নেই।

এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সেতুটি ২০০৪ সালে নির্মিত হলেও নির্মাণকাজের ঠিকাদার-সংক্রান্ত কোনো ফাইল বর্তমানে কুতুবদিয়া উপজেলা এলজিইডি অফিসে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল প্রায় ১০টি গ্রামের হাজারো মানুষ প্রতিদিন যাতায়াত করেন। সেতুটি ধসে পড়ায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, কৃষকরা উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে পারছেন না এবং জরুরি প্রয়োজনে রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে পুরো এলাকায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ার পরও সময়মতো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যথাসময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে আজ এমন দুর্ভোগের মুখে পড়তে হতো না।

স্থানীয়রা অবিলম্বে ধসে পড়া সেতুর কারণ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং দ্রুত একটি টেকসই নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষায়, এটি শুধু একটি সেতু নয়; এটি কয়েকটি গ্রামের শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রাণরেখা। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শফিউল আলম  বলেন, দীর্ঘদিন এই সেতুর কাজ না করায় এখন একেবারেই ভেঙে পড়েছে। এখানকার স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। তাই অতি দ্রুত এখানে নতুন সেতু দরকার। 

এ বিষয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান জানান,স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলজিইডি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ব্রিজটি বেশ আগে থেকেই ভাঙ্গা ও জরাজীর্ণ। অতিবর্ষণে সম্প্রতি এমনভাবে ভেংগে গিয়েছে। এলজিইডি থেকে ব্রিজটি পুন:নির্মাণের জন্য অলরেডি প্রস্তাব দেওয়া আছে। অনুমোদিত হলেই কাজ করা হবে।

Link copied!