কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নে পাহাড়ধসে ছয় বছরের আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন শিশুটির নানী। এ নিয়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনায় একদিনে ৮ রোহিঙ্গাসহ মোট ১০ জনের মৃত্যু হলো। সোমবার বিকাল ৪টার দিকে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খুন্যাভিটার আলিম্মার ঝিরি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মো. মিনহাজ (৬) ওই এলাকার কলিম উল্লাহর ছেলে। আহত জান্নাতুল ফেরদৌস (৬৫) নিহত শিশুটির নানী। স্থানীয় ইউপি সদস্য মঞ্জুর আলম বলেন, ‘কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের মাটিনরম হয়ে পড়েছিল। বিকালে পাহাড়ের ঢাল থেকে একটি বড় গাছ ভেঙে কলিম উল্লাহর
বসতঘরের ওপর পড়ে। পরে জান্নাতুল ফেরদৌস তার নাতি মিনহাজকে নিয়ে গাছের ডালপালা সরানোর চেষ্টা করছিলেন। এ সময় হঠাৎ পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে তাদের ওপর এসে পড়ে। এতে দুজনই মাটিচাপা পড়েন। তিনি আরও বলেন, ‘স্বজনরা দ্রুত মাটি সরিয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে মিনহাজ মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘স্থানীয়দের মাধ্যমে আমরা ঘটনাটি জানতে পেরেছি। পুলিশ ঘটনাস্থলের বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর আগে রোববার রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আলাদা তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৮ জন নিহত এবং ৫ জন আহত হন। এছাড়া কক্সবাজার শহরের পাহাড়তলী সাত্তারঘোনা এলাকায় আলাদা আরেকটি পাহাড়ধসে একজন নিহত ও তিনজন আহত হন। জেলায় টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আপনার মতামত লিখুন :